
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে জুলাই মাসে দেশের সেরা উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা। এ সাফল্যের নেতৃত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হকও দেশসেরা ইউএনও হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) এবং বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শূন্য থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের জন্ম নিবন্ধন এবং মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২১১ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জন করে দেশের সব উপজেলার মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করেছে গলাচিপা।
তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে গলাচিপা উপজেলার জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২৮টি। এর বিপরীতে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ৬৩৭টি। একই সময়ে মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৬টি, অর্জিত হয়েছে ৩১৮টি। ফলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন মিলিয়ে উপজেলার সামগ্রিক অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে ২১১ দশমিক ৫ শতাংশ।
উপজেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে খুলনার দাকোপ উপজেলা, যেখানে অর্জনের হার ১৩০ শতাংশ।
জেলা পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে ১১৩ দশমিক ৯ শতাংশ অর্জন করে দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে পটুয়াখালী জেলা। জেলায় জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬৯২টি, অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ১৯৯টি। অন্যদিকে মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৩০টি, অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৬৭টি।
বিভাগীয় পর্যায়ে জুলাই মাসে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জন করে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বরিশাল বিভাগ। এ বিভাগের জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৮৯৬টি এবং মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৬৪টি। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে যথাক্রমে ৯ হাজার ৮৮৩টি ও ৪ হাজার ৪৮৮টি নিবন্ধন। রংপুর বিভাগ ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ অর্জন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “আবারও দেশসেরা হতে পেরে আমি আনন্দিত। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। আমি নিয়মিত তদারকি করেছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত দুই মাসেও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে বরিশাল বিভাগের সেরা ইউএনও নির্বাচিত হয়েছিলেন আবুজর মো. ইজাজুল হক। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে বর্ষসেরা উপজেলার স্বীকৃতি পেয়েছিল দুমকী উপজেলা এবং তখনকার ইউএনও হিসেবে বর্ষসেরা ইউএনও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনিই।


