
প্রকাশিত
সুমন ইসলাম, লালমনিরহাট
গত দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে তিস্তার বাম তীরবর্তী লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নীলফামারীর ডিমলায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৩ সেন্টিমিটার, (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) যা বিপৎসীমার ১০সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগেও সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দিনের ভারি বৃষ্টি আর উজানের এ ঢলে কারনে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত মাসে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্প মেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হয়।যা একদিন পরে উন্নতি ঘটে।
ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।উপজেলার নদী তীরবর্তি এলাকার নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে। চরাঞ্চলের রাস্তা ঘাট ডুবে যাওয়ায় নৌকা আর ভেলা হয়েছে যোগাযোগের মাধ্যম।
পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধসহ নদী তীরবর্তি এলাকার উচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘ দিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শুস্কমৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে এসবে জরুরী মেরামত দেখি সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে। অথচ শুস্কমৌসুমে বাঁধ মেরামত করলে কাজগুলো যেমন পাকাপোক্ত হবে। তেমনি নদী ভাঙন আর বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পেত।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। সকাল ৬ টায় বিপদসীমার ১০সেন্টিমিটার উপর এবং ৯টায অপরিবর্তিত ১০সেঃমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। তাই স্বল্প মেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। নদী তীরবর্তি ও চরাঞ্চলের মানুষকদের সতর্কতার সাথে চলাচল করতে বলা হয়েছে।



