
প্রকাশিত,২১, অক্টোবর,২০২১
অজয় দাস দেবাশীষ, জবি প্রতিনিধিঃ
দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর ধর্ম অবমাননার মিথ্য আভযোগ তুলে মন্দির ভাংচুর, বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ, হত্যা ও লুণ্ঠন করা হয়। এর প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচী পালিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার’ ও শান্ত চত্বরের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শিক্ষক সমিতি এবং অন্যান্য শিক্ষকরা মানববন্ধনে যোগ দেন৷
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নূরে আলম আবদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের যেখানে হামলা, ভাংচুর হয়েছে সব জায়গায় সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য। শুধু এই হামলা নয়, এর আগে যেসব হামলা হয়েছে সেগুলোরও বিচার দাবি জানাচ্ছি। যাতে করে তারা আর এমন ঘটনা না করতে পারে।’
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম বলেন, ‘অন্যান্য ঘটনা নিয়ে এর আগেও আমাদের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে কিন্তু সঠিক বিচার পায়নি৷ আমি চাই এই এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত আছে তাদের সঠিক বিচার হোক এবং আমাদের মানববন্ধন সার্থক হোক৷’
প্রক্টর মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আজ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করছে৷ এভাবে যদি সারা বাংলাদেশের সকল সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করে তাহলে কুচক্রীরা রক্ষা পাবে না, পালাবার রাস্তা পাবে না। আমি সরকারের কাছে আবেদন করছি যে, যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনার জন্য। যাতে করে পরবর্তীতে কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর চিন্তাও না করতে পারে।’
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, জবি শাখার সভাপতি নবনীতা চক্রবর্তী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে বঙ্গবন্ধু দেশ গড়ার পর থেকে আমরা হিন্দু মুসলিম একসাথে মিলে মিশে থেকেছি।কিন্তু আজ এতটা বিভেদ তৈরি করে দিয়েছে যারা তাদের এমন সাজা হওয়া উচিৎ যাতে তারা আর কখোনো এমন সাহস না পায়।
জবি ছাত্রলীগের সাবেক উপ আন্তর্জাতিক সম্পাদক ঋত্তিক রায় বলেন, আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু বিচার এর দাবী জানাই। সংখালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যেন এরকম দ্বিতীয়বার না হয় এজন্য হিন্দু সম্প্রদায় সুরক্ষা কমিশন চাই।
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সাধারণ সম্পাদক অজয় দাস দেবাশীষ জানান, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই এদেশে হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। সবার অধিকার ও স্বাধীনতাও এখানে সমান।কিন্তু গত ১৩ই অক্টোবরের ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে একদল মুসলিম নামধারী হামলাকারী সারাদেশে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, জ.বি. শাখা। ষড়যন্ত্রের আদলে যে অগ্নিসংযোগ, লুন্ঠন, হত্যা হয়েছে তার কঠিন থেকে কঠিনতম বিচার চাই আমাদের জননেত্রী বঙ্গবন্ধুতনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কাছে। এই অমানবিক ও পাশবিক ধংসযজ্ঞের পেছনে যাদের হাত রয়েছে তাদের খুজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই। আমার সোনার বাংলায় শান্তি স্থাপিত হোক আবার।
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের কার্যকরী সভাপতি হামলার নিন্দা প্রকাশ করে বলেন এতটা বর্বর হামলা ১৯৭১ এ পাকিস্তানি রাজাকারের দল করেছিলো যা আবারও জেগে উঠেছে।
এই অমানবিক হামলার শিকার হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দ্রুত ক্ষতিপূরন এর ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানাই । হামলার শিকার হওয়া মন্দিরগুলো দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে।
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,জবি থেকে সাগর দাস হিমেল বলেন, আমরা তো এরকম বাংলাদেশ চাইনি।যে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে আমরা হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম খ্রিস্টান নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে পৃথিবীর বুকে স্বাধীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে লাল সবুজের পতাকাতলে প্রতিষ্ঠিত করছিলাম,তা কি আমরা সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের মাধ্যমে কলঙ্কিত করতে পারি?সাম্প্রতিক বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় কোরআন অবমাননার মিথ্যে অজুহাতে যে সংখ্যালঘু নির্যাতন দিনেদিনে হচ্ছে তা কি আমরা সহ্য করেই যাবো?দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ভাঙচুর, মূর্তি ভাঙা, ঘরবাড়ি পোড়ানো,জিনিসপত্র লুটপাট ধর্ষণ ইত্যাদির অভিযোগে যখন ভারাক্রান্ত বাংলাদেশ, তখন এর যথাযথ সমাধান হচ্ছে কি আদৌ?
যারা এরকম ন্যাঙ্কারজনক কাজের সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা,আমরা বিচার চাই,আমরা শান্তির দিশারী হয়ে শান্তি চাই।শুধু সনাতন ধর্ম কেনো,কোনো ধর্মেই উগ্রবাদের ঠাঁই নাই।সবশেষে বলতে চাই,আমরা আমাদের সুরক্ষা চাই,এটা আমাদের অধিকার এবং রাষ্ট্রের কর্তব্য।আমরা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য “সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন চাই”।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ অক্টোবর (বুধবার) দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়াদিঘির উত্তরপাড়ে দর্পণ সংঘের পূজা মণ্ডপে পবিত্র কোরআন দেখা যায়। এরপর কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই মণ্ডপে হামলা চালায় একদল লোক। তারপর কুমিল্লা, চাঁদপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, গাজীপুর চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ ওঠে।


