
প্রকাশিত,১৫, জুন,২০২১
এম এইচ লিপু মজুমদার
ধর্মপাশা প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সরকারি দুটি খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত মুল্যে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে ধীর গতিতে। এ উপজেলায় চার হাজার ৩১টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার (১৫জুন) পর্যন্ত ৭৯২টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার গুলোতে ধানের দাম সরকারি ন্যায্যমূল্যের প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় এই ধান সংগ্রহ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় ধান সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার মধ্যনগর ও ধর্মপাশা এই দুটি বাজারে দুটি সরকারি খাদ্য গুদাম রয়েছে। মধ্যনগর খাদ্য গুদামে দুই হাজার ১০৯টন ও ধর্মপাশা খাদ্য গুদামে এক হাজার ৯২২টন ধান বরাদ্দ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি ধান ২৭টাকা দামে ও প্রতিমণ ধান ১০৮০টাকা দামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার জন্য সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন করে ধান গুদামে বিক্রি করতে পারবেন। গত ৬মে থেকে এ উপজেলার দুটি সরকারি খাদ্য গুদামে ন্যায্যমুল্যে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়।
ধান সংগ্রহের সর্বশেষ সময়সীমা রয়েছে আগামি ৩১আগস্ট পর্যন্ত। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ধর্মপাশা খাদ্য গুদামে ৩৭৮টন ও মধ্যনগর খাদ্য গুদামে ৪১৪টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে নানা দিক সামলাতে হয়। আর হাট বাজারগুলোতে ধান বিক্রি করলে কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই সরকারি সম মূল্যে ধান সহজেই বিক্রি করা যাচ্ছে। তবে কৃষকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকারিভাবে ধানের দাম বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারের ধানের ব্যবসায়ী জিটু মিয়া বলেন,ধানের জাত ভেদে প্রতি মণ ধান১০১০ টাকা থেকে শুরু করে ১০৮০টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
ধর্মপাশা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নৃপেন্দ্র কুমার নাথ ও মধ্যনগর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) অবিনাশ দাস বলেন, উপজেলার হাটবাজার গুলোতে ধানের দাম সরকারি ন্যায্যমূল্যের প্রায় সমান সমান থাকায় খাদ্য গুদাম দুটিতে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ ভাবে বাজার দর অব্যাহত থাকলে খাদ্য গুদাম দুটিতে সরকারি ভাবে নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অর্জন কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়।
বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছেন।
ধর্মপাশা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বি এম মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকারি নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে এ উপজেলার হাটবাজার গুলোতে কৃষকেরা ভালো দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন।এ অবস্থায় খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে আসতে কৃষকদের তেমন আগ্রহ নেই। তাই খাদ্য গুদাম দুটিতে এবার ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে।তবে লক্ষমাত্রা অর্জনে আমরা সর্বরকম চেষ্ঠা করে আসছি।


