
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজদিখান:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার দক্ষিণ কুসুমপুর এলাকায় মসজিদের সহ-সভাপতিকে মারধরের ঘটনার পর অভিযুক্ত রেজোয়ানুল হকের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি) হিসেবে কাজ করার সুবাদে আইনের মারপ্যাঁচ ব্যবহার করে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। নিজের খেয়ালখুশি মতো কিছু না হলেই গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা তার নেশায় পরিণত হয়েছে।
পুরানো মামলার তালিকা ও দীর্ঘদিনের হয়রানি:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৫-৭ বছরে রেজোয়ান তার নিজ বংশের লোকজনকেও ছাড় দেননি। জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি ক্বারী মো. ওহাব মাঝী এবং ফাহাদ মাঝীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও শফিউদ্দিন হাওলাদার (পিতা- মহিউদ্দিন হাওলাদার) এবং তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মারধর ও ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের কাল্পনিক অভিযোগ তুলে মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘ সময় হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সাবেক ইউপি সদস্য মনু মেম্বার এবং স্থানীয় নিরবসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ তার দায়ের করা মিথ্যা মামলার জালে আটকা পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, ৩৮ বছর বয়সী রেজোয়ান নিজেকে উচ্চ আদালতের প্রভাবশালী আইনজীবীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেন। এই পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকার বিচার-সালিশ মানেন না। গত সোমবার মসজিদের প্রবীণ সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিনকে (৭০) মারধরের ঘটনার পর তিনি নিজেই থানায় গিয়ে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দক্ষিণ কুসুমপুরের একাধিক বাসিন্দা জানান, রেজোয়ান এলাকায় একজন পেশাদার ‘মামলাবাজ’ হিসেবে পরিচিত। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিরীহ মানুষের নামে জিডি ও মামলা করে আসছেন। মসজিদের মাইক সংক্রান্ত বিরোধেও তিনি একই কৌশল অবলম্বন করেছেন। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জানান, “সে আইনের লোকজনের সাথে চলাফেরা করে বলে কাউকে পরোয়া করে না। নিজের অন্যায় ঢাকতে সে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মিথ্যা মামলার জাল বিছায়। আমরা এই মামলাবাজের হাত থেকে মুক্তি চাই।”
মসজিদের সহ-সভাপতিকে লাঞ্ছিত এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রেজোয়ান যেন তার পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করে আইনের অপব্যবহার করতে না পারে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে এই মিথ্যা মামলাবাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।



