
প্রকাশিত
এম এ সালাম রুবেল ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
সরকারি আইনগত সহায়তা সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় জরিপে দেশের সেরা চার জেলার একটি হয়েছে ঠাকুরগাঁও।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (ন্যাশনাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অর্গানাইজেশন-এনএলএএসও) পরিচালিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমবিষয়ক অনলাইন মূল্যায়নে ঠাকুরগাঁও চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এ মূল্যায়নে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে সেরা ২০ জেলার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে প্রথম হয়েছে কক্সবাজার, দ্বিতীয় সুনামগঞ্জ, তৃতীয় সিরাজগঞ্জ এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে ঠাকুরগাঁও।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি আইনগত সহায়তা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি দপ্তর, হাট-বাজার ও গ্রাম পর্যায়ে সভা, সেমিনার, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা, লিফলেট বিতরণ এবং গণপ্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও বিশেষ কর্মসূচিতেও আইনগত সহায়তা বিষয়ে প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সেবা প্রদানেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে কার্যালয়টি। বর্তমানে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ, আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)—এই তিন ধরনের প্রধান সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে এডিআরের মাধ্যমে আদালতের বাইরে আলোচনার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমছে, একই সঙ্গে আদালতের মামলার চাপও হ্রাস পাচ্ছে।
কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অভিযোগ গ্রহণ, মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তির হার প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। গত এক বছরে ৮১৪টি আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে ৭১৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরনের আইনগত সহায়তা পেয়েছেন। আদালতে ২২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়া ৭০৩ জন বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ গ্রহণ করেছেন এবং বিচারাধীন ১৯১টি মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।
শুধু ২০২৬ সালের জুন মাসেই ১১৪টি আবেদন গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৯৪টি আবেদন মীমাংসার জন্য গ্রহণ করে ৮৪টি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ওই মাসে ৯৭৭ জন মানুষ আইনগত সহায়তা পেয়েছেন এবং আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ১০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা আদায় হয়েছে।
জেলার পাঁচ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আইন সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিভিল জজ) মজনু মিয়া বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য গর্বের। বিচারপ্রার্থী দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন সহজেই রাষ্ট্রের বিনামূল্যের আইনগত সহায়তা পান, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। এই অর্জন আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও কার্যকর ও জনমুখী সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।”



