print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,

মো. শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা  প্রতিনিধি

‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সোমবার (১৫ জুন) জেলা প্রশাসন, গোপালগঞ্জের আয়োজনে এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘স্বচ্ছতা’ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ-উজ-জামান। তিনি বলেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একটি সুস্থ ও আসক্তিমুক্ত সমাজ গঠনে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয় নয়; এটি জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। এ সমস্যা মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রকিবুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশিদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেজাওয়ান কবির, সহকারী কমিশনার এ কে এম ফয়জুল বারী, সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জ প্রিন্ট মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভা শেষে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর জীবন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন, গণসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততাই তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।