print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

মোঃ শিহাব উদ্দিন 

গোপালগঞ্জ জেলা  প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে আল আমিন ব্যাপারী (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আল আমিন ব্যাপারীর বাড়ি ফরিদপুরের কোতয়ালী উপজেলার রঘুনন্দপুর গ্রামে। নিহত বর্না খানমের (২৮) বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ধানকোড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে। তাঁদের ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো এবং আল আমিন স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান আল আমিন। সোমবার (৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বর্না খানমকে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে যান। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে কোনো একসময় তাঁকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরপাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।

পালিয়ে যাওয়ার সময় ভেজা লুঙ্গি, গামছা ও গেঞ্জি হাতে আল আমিনকে দৌড়ে যেতে দেখে তাঁদের ছেলে চিৎকার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় বর্না খানমের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিজানুর রহমান মুন্সী বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১ ধারায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান–এর তত্ত্বাবধানে এসআই মো. বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।