
প্রকাশিত
সুমন ইসলাম, লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের বহুল আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলায় তার বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেন নিহত নন্দিনীর স্বজনরা। তারা আদালতের এ রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, “চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বিচারকাজ মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত বিচার ও রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।”
নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বিচার পেয়েছি। এখন আমাদের একটাই প্রত্যাশা, প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করা হোক।”
যে ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন
গত ১৬ জুন বিকেলে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটি অস্বাভাবিকভাবে নরম দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে বিধান চন্দ্রের নাম সামনে আসে। তাকে আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাধে।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আহত ১৮ সদস্য
ঘটনার খবর পেয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান ঘটনাস্থলে যান। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বহরে হামলা চালিয়ে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে।
সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
দ্রুত বিচারে সন্তোষ
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় অপরাধ দমনে ইতিবাচক বার্তা গেছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।
রায়ের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত দণ্ড কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।



