
প্রকাশিত,১৯, আগষ্ট,২০২২
কবিতা, “জীবনের ঋণ”
কবি, ফেরদৌস আহমদ।
আমি ঋণী, চিরদিন আমি তার কাছে ঋণী,
জীবনের এই দুর্গম পথের সঙ্গী হয়েছে যিনি।
মাঝপথে এসে খুলে দেখি আজ জীবনের অভিধান,
লিখা আছে তাতে আমার সকল তাহারি প্রেমের দান।
তার দুটি ঠোঁটে ফুটিয়াছে যত হাসির পুষ্প তরু
ফুটিয়াছে সব ফুল পল্লবে রাঙাতে আমার মরু।
আমার সুখের খেদমতে সদা রেখেছে তাহার সুখ
আমার চোখের অশ্রু ঠেকাতে কেঁদেছে তাহার চোখ।
জীবনের ঝড়ে জীবন তরুণী যতবার গেছে হেলে
দুঃসাহসীনি সাগরে নামিয়া দুহাতে ধরেছে ঠেলে।
অজস্রবার ডুবতে বসেছি ঝড়ের কবলে পড়ে
ডুবতে পারিনি ,কঠিন হস্তে রেখেছে সে হাল ধরে।
মাঝ দরিয়ায় উঠিয়াছে ঝড় দুর্গম কালো রাত
উঠে যত ঢেউ তত জোরে সেও ধরিয়া রেখেছে হাত।
আমারে রাঙ্গাতে কখন ও সে হাতে নিয়েছে ফুলের তোড়া
আমারে বাঁচাতে সে হাতে আবার নিয়েছে বিষের ছোড়া।
আমি ঋণী ,আজন্মকাল আমি তার কাছে ঋণী
সস্তা কাঁচের চুড়ি ও সে হাতে পরাতে পারিনি কিনি।
এই কবিতা লেখার পর আমার কাছে মনে হল, চেষ্টা করলে আমিও প্রেমের কবিতা লিখতে পারব।
আসলে আমি কখনো প্রেমের কবিতা লেখার চেষ্টা করি না।
এর কারণ হল, ধরুন আপনি একজন সাপুড়িয়া বা জাদুকর।
আপনি খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে সাপের খেলা অথবা জাদু দেখাচ্ছেন।
আর অসংখ্য মানুষ দেখছে।
হঠাৎ আপনার চোখে পড়ল একটি বাচ্চা পুকুরের পানিতে পড়ে গেছে এবং ডুবে মারা যাচ্ছে।
এখন আপনি বাচ্চাটিকে বাঁচাতে গেলে আপনার দর্শকের মন খারাপ হয়ে যাবে ,আর না গেলে বাচ্চাটি ডুবে মারা যাবে।
এখন আপনি কি করবেন?
আপনি বিবেকবান মানুষ হলে অবশ্যই বাচ্চাটিকে বাঁচাবেন।
আমি জানি আমি প্রেমের কবিতা লিখলে অনেক মানুষ পড়বে, কিন্তু আমি দেখছি নানারকম অন্যায় অবিচারে আমাদের সমাজটা প্রতিদিন একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে।
সমাজকে এই অবস্থায় রেখে মানুষের বাহবা সাবাস পাওয়ার জন্য প্রেমের কবিতা লিখতে আমার বিবেক বাঁধা দেয়।
তাই আমার দ্বারা প্রেমের কবিতা লিখা হয় না।
কিন্তু একটা জিনিস সত্য ,আমি যে কোন সময় মরে যেতে পারি।
কিন্তু যে মহামানবির স্নেহ মায়া
প্রেম ভালবাসার উপর ভর করে
জীবনের বেশিরভাগ পথ পাড়ি
দিয়ে শেষ প্রান্তে চলে এলাম, মৃত্যুর আগে তার জন্য কিছু না লিখলে এটা তার ওপর অন্যায় করা হবে।
আমার মৃত্যুর পর তিনি যদি বেঁচে থাকেন ,আর বিষয়টি উপলব্ধি করেন তাহলে খুব কষ্ট পাবেন।
তাছাড়া আমার কাছেও মনে হয় উনার জন্য কিছু না লিখলে আমার লেখালেখিটা পূর্ণ হবে না।
তাই আমার প্রাণপ্রিয় মহারানীকে নিয়ে একটু লেখার চেষ্টা করলাম।
উনি আসলে খুব ভালো মানুষ, ওনার সহযোগিতা না পেলে আমার লেখালেখি অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যেত।
আমার ঘরে আসার পর আমি ওনাকে দুঃখ কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দিতে পারিনি।
এত দুঃখ কষ্ট দেয়ার পরে ও উনি আমাকে ছেড়ে যায়নি, বরং কোন আবদার অভিযোগ ছাড়াই আমার মত অধমের পাশে পড়ে আছেন, এটা আমার পরম সৌভাগ্য।
সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন উনাকে দুনিয়া ও আখেরাত দুই জগতেই ভালো রাখেন।


