
প্রকাশিত
গলাচিপা,পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চালে ডিলারের বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গলাচিপা উপজেলায় বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে। জন প্রতি ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে কখনও ২৬ কেজি, আবার কখনও ২৭ কেজি (এক বালতি)।
এ ছাড়াও নির্ধারিত সময়ে দোকান না খোলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে ডিলারের বিরুদ্ধে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন কার্ডধারী গরিবরা। এ নিয়ে ভোক্তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদয় দৃষ্টি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এমন অভিযোগ উঠেছে বকুল বাড়িয়া ইউনিয়ন বাজারের ডিলার জসিম মৃধার বিরুদ্ধে। তিনি ডিজিটাল মিটারে চাল পরিমাপ না করে এক বালতি চাল বস্তায় ভরে দিয়েই বলছেন ৩০ কেজি চাল। এ নিয়ে উপকারভোগীদের সাথে ঝগড়া লেগেই চলে দিনভর। বাড়াবাড়ি করলে বিভিন্নভাবে হুমকিও দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন কার্ডধারী অনেকেই।
এসব অনিয়মে বিষয়ে ডিলার জসিম মৃধা সাংবাদিককে বলেন, ১,২,৩ নম্বর ওয়াডে ২৭,২৮ কেজি ৫০০ গ্রাম চাল দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমার অনেক শত্রু রয়েছে।
এসময় ১ নম্বর ওয়াডের মুকুল খা, ৫ নম্বর ওয়াডের হোসনেয়ারা বেগম ও নুরজামাল বলেন, বালতি দিয়ে চাল দেয়ায় দু-তিন কেজি কম দেয়ায় সকালে এ নিয়ে ঝগড়া হয়েছে। দুপুর ১২টায় এলে আমাদেরও একইভাবে বালতিতে ভরে চাল দিয়ে বলে এখানে ৩০ কেজি চাল আছে।
গুয়াবাড়িয়া চৌরাস্তার কালামিয়া, টিটোন হাওলাদার, মুকুলখা সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোক্তভোগীরা বলেন, আমাদের ডিজিটাল মিটারে পরিমাপ না করেই বালতি দিয়ে বস্তায় ভরে দেয়। আমরাও নিয়ে যাই। পরিমাপ করেনি তারা বলেছে, এখানে ৩০ কেজি চাল আছে। পরে অন্য দোকানে পরিমাপ করে দেখা যায় ২৭ ও ২৮ কেজির একটু বেশি।
গুয়াবাড়িয়া চৌরাস্তা বাজারের স্থানীয় একাধিক দোকানদার জানান, চাল বিতরণে ওজনে কম দেয়ার উপকারভোগীদের সাথে ঝগড়া হয়েছে ডিলারের। এ নিয়ে ভোক্তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মহিলা সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য ফরিদা বেগম বলেন, চাল নিয়ে প্রতিনিয়ত ভুক্তভোগীদের সাথে ঝগড়া হয়। প্রায়ই সমাধান করতে হয়। ইউপি সদস্য তারা মেম্বার বলেন, চালের ডিলার জসিম মৃধা দুইটি ডিলার পয়েন্ট চালাতে গিয়ে এ সম্মুখীন হচ্ছে। মানুষের কাছে বিশ্বাস হারাচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান জানান, ১৫ টাকা কেজি চাল প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি রয়েছে। কার্ডধারীরা জন প্রতি ৩০ কেজি চাল পাওয়ার কথা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মোহাম্মদ ইজাজুল হক জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চালে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এই বিষয় খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না।



