
প্রকাশিত
সুমন ইসলাম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
একসময় সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট মাদক চোরাচালান ও মাদকসেবনের কারণে ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিল। জেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচারের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থান এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে জেলার পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করার পর বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় দুইজন মাদকসেবনকারীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।
মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সদর উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যদের মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক মাসে সদর উপজেলায় মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও জুয়ার মতো সামাজিক অপরাধও হ্রাস পেয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবক বলেন, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন মাঠে তরুণদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণও বেড়েছে। বিকেল হলেই বিভিন্ন এলাকায় ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা খেলাধুলায় ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায় তরুণদের। সচেতন মহলের অনেকেই এটিকে সামাজিক পরিবর্তনের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন।
মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসেবার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। স্থানীয়দের মতে, সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং তরুণদের সুস্থ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে লালমনিরহাট আরও নিরাপদ ও উন্নত জনপদে পরিণত হবে।
তবে জেলার মাদক পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র ও অপরাধ হ্রাসের পরিসংখ্যান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।



