
‘প্রকাশিত
মোঃ শেখ সেলিম রেজা,বিশেষ প্রতিনিধি,ঢাকা:
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা,কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন,জোরপূর্বক কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া,ব্যক্তিগত নথি ও চেক নিয়ে যাওয়া এবং একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকার সবুজবাগের নারী উদ্যোক্তা হেনা জামান।ভোক্তভোগীর অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে নিজের হাতে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে কৌশলে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলা-মোকদ্দমা ও নানা চাপের কারণে তার ব্যবসা,অর্থনৈতিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত জীবন চরম সংকটে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা জজ কোর্টে নিজ আইনজীবীর চেম্বারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন হেনা জামান।করোনার সংকটে পাশে এসে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ হেনা জামানের ভাষ্য, ২০১৬ সাল থেকে ‘নিউ বিডি নিট গার্মেন্টস লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানটি তিনি পরিচালনা করে আসছিলেন।করোনাকালে ব্যবসায়িক মন্দা ও আর্থিক সংকট দেখা দিলে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে তিনি একজন ব্যবসায়িক পার্টনার নেন।শর্তসাপেক্ষে সোয়াইব আহমেদকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান করা হয়।কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। উনার দাবি,শামছুল ওয়াদুদ খন্দকার,ব্যবসায়িক পার্টনার সোয়াইব আহমেদ,জুনায়েদ আল হাবীব ও মাসুদ রানা (সুমন)সহ কয়েকজন পরস্পর যোগসাজশ করে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন।‘৫০০ টাকার স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর’করে নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে হেনা জামান অভিযোগ করেন,তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যবসা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।এবং এক পর্যায়ে ৫০০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন এই নারী উদ্যোক্তা।
উক্ত ঘটনায় ভোক্তভোগীর দাবি,পরবর্তীতে তার দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।‘নিজের প্রতিষ্ঠানেই ঢুকতে পারি না তিনি’কান্নাজড়িত কণ্ঠে হেনা জামান বলেন,করোনার কঠিন সময়ে নিজের জীবন ও সংসারকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। অথচ বর্তমানে সেই প্রতিষ্ঠানেই প্রবেশ করতে পারছেন না।
তিনি আরোও বলেন,“করোনার সময় আমি নিজের জীবন ও সংসার ঝুঁকির মধ্যে রেখে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রেখেছি। আজ সেই প্রতিষ্ঠানেই আমি ঢুকতে পারি না। আমাকে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। মাসের প্রায় প্রতিদিন আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে।”৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ
শামছুল ওয়াদুদ খন্দকারের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন হেনা জামান।ভোক্তভোগীর দাবি,বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে তার বাসা থেকে ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র, চেক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র গোপনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তবে এসব অর্থ লেনদেন ও নথি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ জাতীয় শেষ সংবাদ এর প্রতিবেদকের হাতে এখনো আসেনি।পাল্টা মামলায় ‘হয়রানির’ অভিযোগ হেনা জামানের দাবি, নিজের ব্যবসা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দীর্ঘদিন পর এই প্রথম তিনি তার ব্যবসায়িক পার্টনারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর থেকেই তাকে পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।তার বিরুদ্ধে অভিযোগ,ঢাকা,বগুড়া ও নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন স্থানে চুরিকৃত চেকের অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমার মামলার আসামিরা ২০২৪ সালে মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালে এসে কীভাবে কোটি কোটি টাকার মামলা করেন আমার বিরুদ্ধে,তাই আমি মনে করি আমাকে হয়রানি করছে—এই বিষয়টি তদন্ত হওয়া জরুরি দরকার।
চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের মামলায় আসামি হেনা জামান কে ভিডিও ঘিরে প্রশ্ন করলে নারী উদ্যোক্তা তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, নিজের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে গেলে তাকে চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের মামলায় আসামি করা হয়েছে।তবে যে ঘটনার ভিত্তিতে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করছেন, সেই সময়ের একটি ভিডিও ফুটেজে তাকে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর নতুন অতিথির মতো আপ্যায়ন করার দৃশ্য দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠেছে বলে জানান তিনি। তার বক্তব্য, যদি সত্যিই কেউ চাঁদাবাজি বা ভাঙচুর করতে যায়, তাহলে তাকে কেন অতিথির মতো আপ্যায়ন করা হবে—এই প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা দরকার।ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের সময় এবং ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
‘প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় হয়রানি’
হেনা জামানের আরও অভিযোগ,অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের পরিচয় ব্যবহার করে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন এবং হয়রানি করেছেন বলে তিনি জানান।তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তারের পর অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে এসে,বাইরে থেকে প্রভাব বিস্তার করে তাকে আরও চাপের মধ্যে ফেলছেন।তার ভাষ্য, “আমি আদালত থেকে আদালতে ঘুরছি। যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি, তারা জামিনে বেরিয়ে এসে বাইরে থেকে প্রভাব খাটিয়ে আমাকে আরও হয়রানি করছে এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাই তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে
সংবাদ সম্মেলনে হেনা জামান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানান।
তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, আর্থিক লেনদেন, চেক ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, জোরপূর্বক স্বাক্ষর এবং তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর পেছনের প্রকৃত ঘ



