
প্রকাশিত
সুমন ইসলাম
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অপরাধে স্বামী মো. আতিকুল ইসলামকে (৩০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ দুপুরে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
নিহত গৃহবধূ মোছা. মিতু আক্তার লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্দা ইউনিয়নের গোকুন্দা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার বাসিন্দা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আতিকুল ইসলাম একই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
আদালতের নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আতিকুলের সঙ্গে মিতু আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ৫ মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই সামান্য পারিবারিক বিষয় নিয়ে মিতুর ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আতিকুল। এরই ধারাবাহি কতায় ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে মিতুকে গালিগালাজ করেন আতিকুল। ঘটনার রাতে আতিকুল কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা যেতে চাইলে মিতু তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে তার মাথা ও মুখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। পরবর্তীতে ঘরের উঠানে থাকা একটি শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মিতুকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। নৃশংসে এই নির্যাতনের ফলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মিতু। ঘটনার পরপরই আতিকুল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে নিহতের ৫ মাসের শিশু সন্তান আতিকা আক্তারের অনবরত কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে মিতুর নিথর দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। এরপর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলা চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা শেষে আজ আদালত এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
,



