print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সুমন ইসলাম
লালমনিরহাট

লালমনিরহাট পৌরসভার নবাবেরহাট এলাকায় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিরোজ কবির ও লালমনিরহাট জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরের বসতবাড়ির দেয়াল ভাংচুর  ও মারধরের ঘটনায় ১৭জনের নামে মামলা হয়েছে।  এদিকে একে অপরকে দোষারোপ দোষারোপ করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই পক্ষ।

 এরআগে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে পৌর শহরের নবাবেরহাট এলাকায় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিরোজ কবির ও লালমনিরহাট জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরের বসতবাড়ির দেয়াল ভাংচুর করে ৩৫ থেকে ৪০জনের একটি দল। এসময় অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরকে মারধর করা হয় এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে বিধ্বস্ত করা হয বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে ঘটনারদিন রাতেই ১৭জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তা আমলে নিয়ে নথিভুক্ত করেন।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত দাবী করে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ওই আইনজীবী। পৌরসভার নবাবেরহাট এলাকায় ভুক্তভোগী ওই আইনজীবী তার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই আইনজীবীর ভাই এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিরোজ কবির লিখি বক্তব্যে বলেন, তাদের পৈতৃক জায়গা-জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। সোমবার দুপুরে  তিনি আদালত চত্বরে অবস্থানকালে বাড়ি থেকে ফোনে জানতে পারে যে, বুলডোজার মেশিন নিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০জন লোক তাদের বাড়ির সামনে এসে বাড়ির মেশিন দিয়ে বাড়ির দেয়াল ভাঙচুর করছে। পেরে তিনি দ্রুত বাড়িতে গিয়ে তাদের বাধা দেয়। এসময় দূর্বৃত্তরা আইনজীবী হুমায়ুন কবিকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টেনেহিঁচড়ে বিধ্বস্ত করে। পরে  ট্রিপল নাইনে ফোন করলেও ঘটনা স্থান থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে থাকা থানা পুলিশ আসতে সময় লাগে এক ঘণ্টা, আর এরমধ্যেই বসতবাড়ির দেয়াল গুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওই আইনজীবীর। পরে মারধরের শিকার হয়ে আইনজীবী হাসপাতালে ভর্তি হন।
অপরদিকে একইদিন রাত ৮টায় পৌরসভার ওই নবাবেরহাট এলাকার নিজ বাড়িতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে ভেঙে দেওয়া যায়গার মালিক দাবী করেছেন প্রতিপক্ষ ফরহাদ আলম সম্রাট। এজন্য তারা যায়গা খালি করেছেন এবং তাদের নামে ওই যায়গার দলিলপত্র আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেছেন তারা।

 লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমি জানি। ট্রিপল নাইনে ফোন করেছিলেন। যতটুকু জানতে পেরেছি, বিষয়টি পারিবারিক বিরোধ। দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ভাবে জমি দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে এর আগেও থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনাটি পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা এজাহার নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।