print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সুমন ইসলাম
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে গৃহবধূ আমেনা বেগমকে নির্যাতন ও তাঁর যৌনাঙ্গে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে দায়ের করা হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে খাতাপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত আমেনা বেগমের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আমেনা বেগম মৃত্যুবরণ করলেও মামলার প্রধান আসামিসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়নি। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজন প্রতিবাদকারী মহাসড়কে শুয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এতে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক থেকে সরিয়ে নেন। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমেনা বেগমের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা মানবতাবিরোধী ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তারা আরও বলেন, “ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ বা প্রভাব যেন তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। আদালতের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।”
বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।