print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

ইমাম হাসান জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গণকা গ্রামের অগ্রণী সেচ প্রকল্প পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের মেন ক্যানেলের মণ্ডল পুকুরসংলগ্ন প্রায় ১০০ মিটার অংশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। অতিবৃষ্টিতে পুকুরের পানি উপচে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় ক্যানেলের পাড়ে পানির তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে যেকোনো সময় ক্যানেল দেবে বা বসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অগ্রণী সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে দুই মৌসুমে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ হয়। ক্যানেলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে এসব জমিতে ধান ও চৈতালি ফসলের চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ মণ ধান উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সমিতির সংশ্লিষ্টরা। অগ্রণী সেচ প্রকল্প পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ক্যানেলটি এই এলাকার কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যানেল বসে গেলে শুধু কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন না, বরং এলাকার খাদ্য উৎপাদনেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে ক্যানেলের পাশের রাস্তাটিও বর্তমানে পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় ৫০০ পরিবার নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। পানির চাপে রাস্তা ও ক্যানেল—দুই অবকাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অগ্রণী সেচ প্রকল্প পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. মাহ্ফুজুর রহমান বলেন, “এই ক্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে দুই মৌসুমে ফসল উৎপাদন হয়। বর্তমানে অতিবৃষ্টির কারণে মণ্ডল পুকুরের পানি রাস্তা ডুবিয়ে ক্যানেলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্যানেল বসে গিয়ে হাজার হাজার কৃষকের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত রাস্তা পর্যাপ্ত মাটি দিয়ে ভরাট করে টেকসইভাবে নির্মাণ এবং ক্যানেলের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রকল্পের ওপর প্রায় ২ হাজার ৫০০ পরিবার নির্ভরশীল। ক্যানেলটি সচল থাকলে প্রায় এক লাখ মণ ধান উৎপাদন সম্ভব হয়। তাই কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত ক্যানেল ও রাস্তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”এলাকাবাসী ও সমিতির সদস্যরা বলছেন, দ্রুত রাস্তা উঁচু করে পর্যাপ্ত মাটি ভরাট এবং ক্যানেলের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সুরক্ষিত করা না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।