
প্রকাশিত,২৪, এপ্রিল,২০২৩
আয়নাল ইসলামঃ
মা বাবা হারানো অবুঝ শিশু হতাশার মহাসমুদ্রে, আশার ভেলায় ভর করে বাবা মাকে ফিরে পাওয়ার মাতাল হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে বেদনা বিদুর ২০ বছর কেটে গেল তার। অবশেষে গণমাধ্যমে নিরাশার চাদর ভেদ করে আসার ঠিকানায় মিলন মেলায় সুখের অশ্রু জলে সিক্ত হলো বিল্লাল। বাবা-মায়ের ২০ বছরের জগদ্দল পাথর, বুকের রক্তক্ষরণ কষ্টের খরতা সবকিছু মুহূর্তেই ঘোচে গেল, চোখে এলো সুখের জল। বাবা- মার কোলে ফিরে এলো হারানো সন্তান , মুখোমুখি দেখা সুখের হাটে সে কি কান্না আনন্দ অশ্রু ধারা।
ময়মনসিংহ গফরগাঁও এশিয়ান টিভি প্রতিনিধি, আয়নাল ইসলামের মাধ্যমে, ২০,বছর পর
হারিয়ে যাওয়া বিল্লাল, তার বাবা-মাকে ফিরে পেয়েছে।
,( সোমবার ২৪, এপ্রিল২০২৩), দুপুরে উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ২০ বছর পূর্বে হারিয়ে যাওয়া বিল্লাল কে তার বাবা মার কাছে হস্তান্তর করেছেন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও এশিয়ান টিভি প্রতিনিধি, আয়নাল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য হানিফ খান, ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য ফিরোজ মাস্টার সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং গ্রামের খেটে খাওয়া দিনমজুর বাবুল মিয়া, কাজের সন্ধানে ২০০২ সালে দুই ছেলেও স্ত্রী কে নিয়ে ঢাকায় আসেন, পরিচিত একজনের সাহায্যে কম মূল্যের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করে ন।
বাবুল মিয়া প্রতিদিনের মতো ছোট দুই ছেলেকে মায়ের কাছে রেখে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন, এদিকে মা ছোট দুই ছেলেকে খেলতে বসিয়ে রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকেন। দুই ভাই খেলার ছলে প্রথমে বড় ভাই আনোয়ার গেইটের বাইরে চলে আসে।
ভাইয়ের আসতে বিলম্ব দেখে ছোট ভাই বিল্লাল খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন। অবুঝ বিলাল খুঁজতে খুঁজতে পথ ভুলে হারিয়ে যায়। এদিকে বড় ভাই আনোয়ার বাসায় ফিরে আসে, এসে বিল্লালকে খুঁজে না পেয়ে দৌড়ে তার মায়ের কাছে যায়, মাকে বিস্তারিত বললে মা , বড় ছেলে (আনোয়ারকে) নিয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে, সব খুঁজে ক্লান্ত হয়ে বিলালের বাবাকে বিষয়টা জানালে বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে যায়, কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়ে আত্মীয়-স্বজন সকলকে জানাই, ঢাকা শহরে যতটুকু চেনা জানা সবটুকু সবখানেই খোঁজাখুঁজি করে শূন্য হাতে ক্লান্ত হয়ে কান্নায় লুটিয়ে পড়ে বিল্লাল পরিবার, সন্তান হারানোর যন্ত্রণাকে বুকে নিয়ে কেটে যায় ২০ বছর।
এদিকে হারানোর স্রোতে ভাসতে ভাসতে বিল্লালের শেষ আশ্রয়স্থল হয় গফরগাঁও উপজেলা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের গুঞ্জুর মিয়ার বাড়িতে, জানা গেছে গুঞ্জুর মিয়া র স্ত্রী সুরাইয়া, গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের রান্নার কাজ করতেন। সেই সুবাদে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অসহায় বিল্লালকে বুকে তুলে নেন। এখানেই বেড়ে উঠতে থাকে মা হারা বাবা হারা বিল্লাল হোসেন।
অবশ্য গুঞ্জর মিয়া বিভিন্ন মাধ্যমে বিল্লালের বাবা-মার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শিশু বিল্লাল তার বাবা, মা ও ভাইয়ের নাম ছাড়া কোন ঠিকানা বলতে পারেনি। তাকে অনেকবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে ঠিকানা বলার জন্য, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস যে বয়সে বাবা মায়ের আদরে লেখাপড়া করে বড় হওয়ার কথা সেই বয়সে পরিবারকে হারানোর ব্যথা বুকে নিয়ে কেটে গেল ২০ বছর।২০১৯ সালে চায়ের স্টলে এশিয়ান টিভি গফরগাঁও প্রতিনিধি আয়নাল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ হয় বিল্লালের আবদার করে বলে আপনি তো সাংবাদিক, ফেসবুকে আমার বাবা মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে একটা নিউজ করে দেন, আয়নাল ইসলাম তৎক্ষণাৎ তার বক্তব্য নিয়ে হারিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালের ছবি ফেসবুকে আপলোড দিয়ে স্ট্যাটাস দেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসের তিন বছরের মাথায় বিলাল হোসেন তার প্রকৃত জন্মদাতা পিতা-মাতা ও পরিবারের সন্ধান মিলে। ২৪ এপ্রিল, গফরগাঁও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আয়নাল ইসলাম যাচাই বাছাই করে উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক মিলন মেলা ঘটান,
আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য হানিফ খান, সদস্য, ফিরোজ মাস্টার, অবসরপ্রাপ্ত আর্মি, মোশারফ হোসেন, সহ অনেকেই, এসময় বিল্লালের বেড়ে ওঠা আশ্রয়স্থলের মা, সুরাইয়া ও তার আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
হারিয়ে যাওয়া বিল্লাল কে কাছে পেয়ে সুখের কান্নায় মিলনমেলার সকলের চোখে নেমে এলো সুখের জল ধারা , মায়ের লুকিয়ে রাখা কান্না, বাবার, কষ্টের আর্তনাদ, ভাইয়ের শৈশবের স্মৃতি সব যেন ঘিরে ধরেছিল এক মুহূর্তে।
এশিয়া টিভি প্রতিনিধি আয়নাল ইসলাম বলেন, মানবিক সামাজিক সহযোগিতায় আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় বিল্লালকে তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সাংবাদিকতার একটি বড় অংশ। একজন সাংবাদিকই পারে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও মানব কল্যাণ, দেশের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে ।


