print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,১১, নভেম্বর,২০২১

মোবারক হোসাইন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সাজাপ্রাপ্ত হয়েও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্যা পদে প্রার্থী হয়েছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোছা: করফুল নেছা। তিনি কুরবাননগর ইউনিয়নের হাছনবাহার গ্রামের এরশাদ আলীর স্ত্রী।
জানা যায়,গত ১৬ জুন ২০১৯ইং তারিখে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারী আপীল ৫৯/২০১৩নং মামলায় করফুল নেছাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
রায়ের অনুলিপি গত ৩০/১১/২০২০ইং তারিখে ৩৮৯ নং স্মারকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রথম কোর্টে ১৩/১১/২০২০ইং তারিখে ১৪৭৬ নং স্মারকে করফুল নেছার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যূ হয়।
মামলার বিবরনে প্রকাশ,আসামী করফুল নেছা বিদেশে অবস্থানরত স্বামীর মাধ্যমে দুবাই পাটানোর কথা বলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নতুন হাছননগর নিবাসী মৃত নুর উদ্দিনের পুত্র সোনা মিয়ার কাছ থেকে ১০/৮/২০০৯ইং সকাল ১০টায় নগদ ২ লাখ টাকা নেয়। পরবর্তীতে সোনা মিয়াকে বিদেশ নেয়াতো দূরের কথা বরং পাওনা ২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে অস্বীকার করে। এ ঘটনায় সোনা মিয়া বাদী হয়ে আমল গ্রহনকারী আদালত সদর জোনে বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৪০৬/৪২০ ধারায় সিআর ১০/২০১১ (সদর) নং মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত দায়েরকৃত মামলাটি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা সরজমিন তদন্ত করে আসামী করফুল নেছার বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।পরবর্তীতে মামলাটি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিজ্ঞ আদালত,২৬/৬/২০১৩ইং তারিখে করফুল নেছাকে দোষী সাব্যস্তক্রমে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানার রায় প্রদান করেন। পরে নি¤œ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামী করফুল নেছা অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে আপীল দায়ের করলেও করফুল নেছার বিরুদ্ধে সাজা কমিয়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের উক্ত রায় বহাল থাকলেও আসামী করফুল নেছা তার মনোনয়নপত্রে মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে নির্বাচন কমিশনকে ফাকি দিয়ে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জানতে চাইলে রিটার্নিং অফিসার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই এর সময় বিষয়টি কেউ আমাদেরকে জানায়নি। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাজাপ্রাপ্ত আসামী করফুল নেছা দাবী করেন, “দুটি আদালতে আমার বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। রায়ের পরে বাদীকে এ পর্যন্ত ২ লাখ টাকার মধ্যে আমি ১১ হাজার টাকা প্রদান করেছি। এবং উকিল মহরী লাগিয়ে বাদীর কাছ থেকে আপোষনামায় স্বাক্ষর নিয়ে আদালতে দাখিল করেছি”। এদিকে প্রতারিত বাদী সোনা মিয়া বলেন,মামলার রায় হওয়ার পরে আমার আত্মসাৎকৃত ২ লাখ টাকা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ ১১ হাজার টাকা পরিশোধ করে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে কথিত আপোষনামায় স্বাক্ষর নিয়েছে করফুল নেছা ও তার বাহিনীর লোকজন। বিজ্ঞ আদালত আমার স্বাক্ষরিত আপোষনামা আমলে নেননি। আদালত করফুল নেছার সাজা বহাল রেখেছেন।
হাছনবাহার গ্রামের ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন, শুধু সোনা মিয়া নয়,স্বামী বিদেশে থাকার সময় করফুল নেছা বিদেশে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে মানুষকে প্রতারিত করেছে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় অনেকবার সালিশ হয়েছে। হাছনবাহার গ্রামবাসী বলেন,আমরা প্রতারক মহিলাকে অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মোবারক হোসাইন, সুনামগঞ্জ