
প্রকাশিত,০২, অক্টোবর,২০২২
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার,তিনি নাক-কান গলার ডাক্তার। নেই কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি। মোবাইলের আলোতে পরীক্ষা করতে গিয়ে কান ফুটো করে দেন। এমনই এক অদ্ভুত ডাক্তার চেম্বার করেন গাজীপুর জেলা শ্রীপুর উপজেলা মাওনা পদ্মা হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক হাসপাতাল এন্ড ট্রমা সেন্টারে।
আলোচিত এই ডাক্তারের নাম শহীদুজ্জামান। তার অপচিকিৎসার শিকার হয়ে অনেকেই দীর্ঘ মেয়াদী নানা জটিলতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, নাক-কান-গলা দেখানোর জন্য আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি নেই। মোবাইলের আলোতে নাক-কান-গলা দেখেন। অপারেশন থিয়েটারেও নাক-কান-গলা অপারেশনের স্বতন্ত্র কোনো যন্ত্রপাতি নেই।
ডা.
্্শহীদুজ্জামান ঢাকা থেকে আসার সময় নিজের ব্যাগে করে কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে আসেন। সেসব যন্ত্রপাতি দিয়েই অপারেশন করে আবার ব্যাগে ভরে নিয়ে যান। এলাকার লোকজন বলে ঢাল নেই তলোয়ার নেই তিনি নিধিরাম সর্দার।
ডা. শহীদুজ্জামান গত ২ সেপ্টেম্বর সাদ নামের ১১ বছরের এক শিশুর গলার টনসিল অপারেশন করেন। অপারেশনের মাত্র চার দিন পর থেকেই গলা দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করে শিশুটির। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অপারেশনের ইনফেকশন ধরা পড়ে। ভুল চিকিৎসায় এমনটি হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।
এখনো শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। তিনি আগত রোগীদের প্রতিও দুর্ব্যবহার করেন। সামান্য অসুখেই অপ্রয়োজনীয় অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্য করেন। সুন্দরী মহিলা রোগীদের কান পরীক্ষার সময় কানের কাছে ফিস ফিস করে উত্যাক্ত মূলক কথা বলেন এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাধে হাত রেখে নাক-কান-গলা পরীক্ষা করেন।
আবার গ্রামের সহজ সরল মহিলা রোগীদের কাছে দেশীয় মোরগীর ডিম, দুধ, কলা ইত্যাদি পরবর্তী ভিজিটে না নিয়ে আসতে বলেন। না আনলে অতিরিক্ত বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষা ধরিয়ে দেন। গত ১৬সেপ্টেম্বর সুরাইয়া নামের এক রোগিনী কান পরিষ্কার করতে গিয়ে কানের পর্দা ফুটো করে দেন। ওই রোগিনী কানে কম শোনাসহ এখনো নানা জটিলতায় ভুগছেন।অথচ ডা. শহীদুজ্জামান নিজেকে অনেক বড় ডিগ্রীধারী ও নাক কান গলা হেড নেক সাজার্রী বিভাগের অধ্যাপক দাবী করে মহিলা রোগীদের আকৃষ্ট করে নিজেকে খুব বড় ডাক্তার হিসাবে জাহির করেন।
শ্রীপুর মাওনা চৌরাস্তায় নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যান সুপার মাকের্টের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পদ্মা হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক হাসপাতাল এন্ড ট্রমা সেন্টারে ডা: শহীদুজ্জামান প্রতি শুক্রবার চেম্বার করেন। এখানে নাক কান গলা দেখার জন্য নেই কোন কম্পিউটারাইজ যন্ত্রপাতি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেরও কোনো অনুমোদন নেই। হাই কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরেরও নেই কোনো ছাড়পত্র। ট্রমা সেন্টার নামকরণ করা হলেও এখানে আহত গুরুতর বা মুমূর্ষ রোগীদের জরুরী চিকিৎসা প্রদানের মত কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামের সাথেও বাস্তবিক কোনো মিল নেই। পদ্মা হেলথ কেয়ার ডায়াগনষ্টিক হাসপাতাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ বলেন, একটু ভুলের জন্য পেপারে লেখালেখির দরকার নেই। ডাক্তার শহীদ স্যার এমনিতেই চেম্বার করা বন্ধ করে দিয়েছে। ডাক্তার শহীদুজ্জামান বলেন, আসেন সামনা সামনি কথা বলি। আগত রোগীদের সাথে র্দুব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, সিরিয়াল ম্যানেন্ট ফলো না করার কারনে দমক দেওয়াটা স্বাভাবিক। আর অন্যান্য প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যান।


