print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,১২,মে,২০২১

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

জীবিকা নির্বাহ করা কতটা কষ্টকর সেটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবেনা যদি সেটা হয় এমন একই পরিবারে সাতজন পৃথিবীর আলো দেখা থেকে বঞ্চিত ।

তাহলে বিষয়টি সত্যি কষ্টকর ও বেদনাদায়ক।
এমনিই একটি ঘটনা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “একই পরিবারের সাতজন অন্ধ, কেমন কাটছে তাদের সময়” শিরোনামে একটি ভিডিও দেখার পর তাদেরকে তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা ও ঈদ সামগ্রী দিয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন অনন্ত।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌর এলাকার উজিলাব গ্রামের ০৬ নং ওয়ার্ড, হলাডির চালা, মৃত হোসেন আলীর সন্তান অন্ধ আমীর হোসেন (৩৫), নাসরিন আক্তার (৩০),
হাসিনা আক্তার (৩২), জাকির হোসেন (২৫)। জাকির হোসেনের সন্তান জোনাকি (১০), হাসিনার সন্তান রুপা আক্তার (১২) ও আমীর হোসেনের স্ত্রী শিউলি আক্তার (৩০) সকলেই দৃষ্টিশক্তিহীন। এদের মধ্যে জাকির হোসেন ও শিউলি আক্তার কিছুটা দেখতে পেলেও বাকি সবাই পুরোপুরি অন্ধ।

মঙ্গলবার ১১ মে দুপুর ০২ টায় দিকে নিজ গাড়িতে করে ০১ বস্তা চাল, ১০ কেজি ডাল, ১০ কেজি চিনি, পোলাও’র চাল ৫ কেজি, সয়াবিন তেল ৫ লিটার, সরিষা তৈল ১ লিটার,সাবান, পেয়াজ ১০ কেজি, আলু ১০ কেজি, রসুন ৫ কেজি, আদা ১ কেজি ও ৫ প্যাকেট লাচ্ছা সেমাই তাদের বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসেন।

অন্ধ পরিবারের অভিভাবক দৃষ্টিহীন আমির হোসেন প্রাপ্তির আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, চলমান লকডাউন থাকায় আমার ঘরে কোনও খাবার ছিলনা, সবাইকে নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম,ঈদের পূর্ব মুহূর্তে সাদ্দাম ভাই আজ আমাদের অন্ধ পরিবারের অনেক উপকার করেছেন। এগুলো ঈদ সামগ্রী দিয়ে কমপক্ষে একমাস চলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

সাদ্দাম হোসেন অনন্ত বলেন গতরাতে একই পরিবারের সাতজন অন্ধের খবর শুনে সাথে সাথেই যোগাযোগ করি। তাদের অসহায় অবস্থা জেনে দ্রুত এক মাসের খাবারের ব্যবস্থা করে নিজে তাদের বাড়িতে যাই। জাকিরের মেয়ে জোনাকি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় পড়ে। খুব মেধাবী হাওয়ায় পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছি ।

Desh Somoy 4
সাদ্দাম হোসেন অনন্ত আরো জানান, একই পরিবারের সাতজন অন্ধ ।এই পরিবারের আজ না গেলে বুঝতে পারতাম না কতটা দুর্দশার জীবনযাপন করে এই পরিবারটি আমি তাদেরকে কথা দিয়েছি ,অন্ধ পরিবারের প্রতি সবসময় আমার সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।