
প্রকাশিত,২৪ এপ্রিল, ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক গাজীপুরঃ
করোনাকালে কঠোর লকডাউনের মাঝে গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমীর বানরগুলো খাদ্যসংকটে ছিল। স্থানীয় লোকজন মাঝেমধ্যে প্রাণীগুলোকে খাবার দিতেন। তবে তাও পর্যাপ্ত ছিল না। খাদ্যাভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছিল বরমী বাজারের বানরের সংখ্যা। অবশেষে উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও) ব্যক্তিগত উদ্যেগে খাবার খাচ্ছে বরমীর ২শত বানর।
শনিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসলিমা মোস্তারী ২শত বানরের মুখে খাবার তোলে দেন। বরমী বাজার ব্যবসায়ী সজীব বলেন, করোনার জন্য বাজার-ঘাট সীমিত, মানুষের চলাচল সীমিতের চলতি সময়ে খাবারের অভাবে বেশ কিছুদিন খাবারের অভাবে ভুগছিল বানরগুলো।ইউএনও জানান, বানরগুলো সাধারণত বাজারের দোকানপাট, বাজার এলাকার বাসিন্দাদের বাসা বাড়ী থেকে যা পায় তা থেকেই নিজেদের খাদ্যের যোগান দিয়ে থাকে। বানরের সংখ্যার তুলনায় এ খাদ্য অনেকটাই অপ্রতুল। অন্যদিকে চলমান লকডাউনে খাদ্য সংকট আরও বেড়েছে। প্রকৃতির প্রাণীদের কথা ভেবে নিজ উদ্যোগে তিনি শনিবার নিজ হাতে ২’শ বানরের মুখে খাবার তুলে দেন। খাদ্য উপাদানের মধ্যে ছিল কলা, রুটি ও কেক।
এ সময় বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বাজার পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বরমী বাজারে বানর বসবাসের ইতিহাস অতি প্রাচীন। হাজার হাজার বানর ছিল এ বাজারে। খাদ্য সংকটসহ নানা কারণে বানরের সংখ্যা কমে গেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা তিনি বলতে পারেননি।শ্রীপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, বাজারে বানরের নির্ধারিত কোনো খাবার নেই। বাজারের বিভিন্ দোকানপাট, বাসিন্দাদের বাড়ি ঘরে হানা দিয়ে, শুকাতে দেওয়া কাপড়-চোপর, হালকা আসবাবপত্র টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় কেউ খাবার দিয়ে সেগুলো ফেরত পায়। খাদ্য সংকটে ভুগলে সাধারণত এভাবেই খাবারের অভাব মেটায় বানরগুলো।
অপর ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, চলতি লকডাউনের কারণে বানরগুলোর খাদ্য সংকট চমের পৌঁছেছে। ইউএনও জানান, বানরগুলোর জন্য খাবারের স্থায়ী বন্দোবস্তের ব্যাপারে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে একটা উপায় খোঁজে বের করা হবে।


