
অমিত নাথ
লোক গানের বহুপুরোনো ও লুপ্ত প্রায় ধারাগুলির একটি হাটের গান। বর্তমান সময়ে দাঁরিয়ে,আমরা সমস্ত সংবাদ আমাদের মুঠোফোন এর মাধ্যমেই পাই। কিন্তু মধ্যযুগীয় পরবর্তী সময়ে এই হাট ই হয়ে উঠেছিল যোগাযোগ মাধ্যমের একমাত্র মাধ্যম।
বহু প্রাচীন এবং পুরাতন লোকসঙ্গীতের অঙ্গ হাটের গান। গত ১০ তারিখ আমাদের এই হাটের গান রিলিজ করেছে তন্ময় বিশ্বাস এর ইউটিউব চ্যানেল থেকে। সেই সম্পর্কে আপনাদের জানাতে চাই, আগেকার দিনে প্রত্যেক সপ্তাহে গ্রামে গঞ্জে হাট বসতো, ছোটবেলায় আমরা পাঠ্যবইতে হাট কবিতার মাধ্যমে আমরা অনেক কিছুই জেনেছি। হাঁটছিল সব কিছুর প্রচারের এবং যোগাযোগের মাধ্যম এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ও একটা বিশাল বড় মাধ্যম। পিয়ন যদি গ্রামে কারোর বাড়ি খুঁজে না পেত তাহলে হাটে এসেই তার চিঠি পৌঁছে দিতেন, কারণ কারোর বাড়ি না খুঁজে পাওয়া গেলেও সকলেই হাটে যেতেন, সপ্তাহখানেক এর বাজার একবারে ওইদিনে হাট থেকে সংগ্রহ করতেন গ্রামের মানুষ জনেরা, প্রতি সপ্তাহে হাটে সকালকে যাওয়া চাই ই চাই। বিভিন্ন রকমারি সাজা-গোজ, পোশাক-পরিচ্ছদের দোকান খাবার-দাবারের দোকান থেকে শুরু করে, সাংস্কৃতিক কাজকর্মের এক বিশাল জায়গা ছিল গ্রাম বাংলার হাট। সেই হাটের সমস্ত কিছুই তুলে ধরা হয়েছে এই হাটের গানের মাধ্যমে। আজ দুই হাজার কুড়ি সালে, মহামারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত বাংলা তথা ভারত বর্ষ তথা সারা পৃথিবী। এই ২০২০ সালের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও পাওয়া যাবে এই হাটের গানের মাধ্যমে, এই গানটি লিখেছেন এবং সুর দিয়েছেন দিনাজপুরের বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী শ্রী তরণী মোহন বিশ্বাস এবং গানটি কম্পোজ করেছেন এবং গেয়েছেন তন্ময় বিশ্বাস। পুরনো হাটের গানের সুন্দর একটি রূপ নতুন করে সকলের সামনে তুলে ধরেছেন আজকের এই হাটের গানের মাধ্যমে পিতা-পুত্র এবং অন্যান্য শিল্পীরা মিলে। সমগ্র পরিচালনায়: মানব তরণী, চিত্র পরিচালনায়: কিংশুক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডি ও পি: চন্দন মজুমদার, অ্যাসিস্ট্যান্ট বিওপি: স্বস্তিকা কুন্ডু, ভিডিও এডিট : প্রশান্ত কুমার সুর, আশা করব আপনাদের সকলের এই গানটি খুব পছন্দ হবে এবং সকলের কাছে কাছে পৌঁছে দেবেন এই হাটের গানের মাধ্যমে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কে, সকলে দেখুন ধন্যবাদ।


