
প্রকাশিত,২৫,মে,২০২১
মোঃআমিনুল ইসলাম,কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সাত সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচল শুরুর কথা থাকলেও কোনো কোনো লঞ্চে দেখা যায় আগের মতেই গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে আসতে।
সোমবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা সোনার তরী-২ লঞ্চসহ একাধিক লঞ্চে এই চিত্র দেখা যায়। সোনার তরী-২ এর যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার প্রথম দিনে সদরঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীবাহী লঞ্চ ছেড়ে যেতে দেখা যায়। খালি পড়ে থাকা পন্টুনে ফিরে আসে মানুষের পদচারণা।
লঞ্চগুলোর কর্মীদের মধ্যে যাত্রী তোলা নিয়ে হাঁকডাক ও প্রতিযোগিতার সেই পুরনো চিত্র যেন ফিরেছে। নৌপরিবহনে অনেক দিন পর যাতায়াত করতে পারার আনন্দ ফুটে উঠেছে অনেকের মুখে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় সোনার তরী, তারপর ৭ টা ২০ মিনিটে সোনার তরী-২ লঞ্চ চাঁদপুরে উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
তারপর একে একে দুপুর পর্যন্ত জামাল ৪, আওলাদ ৫, সোনার তরী ৫, শিফামনি ১, দোয়েল পাখি ১, গ্রীনলাইন ৩, কর্ণফুলী ১৪, বোগদাদীয়া ৭, ঈগল ৯, মিতালী ৭, ইমাম হাসান ৫, ময়ূর ২, ৩ ও ৭, মিরাজ ৬, আল ওয়ালিদ ৯, মানিক ৫, ঈগল ৭ ছেড়ে যায়।
বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক দীনেশ কুমার সাহা বলেন, সদরঘাট থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৭টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। বিভিন্ন গন্তব্য থেকে এসেছে ১৪টি। রাত সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত ৮০টির বেশি লঞ্চ ছেড়ে যাবে।
সরজমিনে দেখা যায়, সদরঘাট থেকে ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া লঞ্চের চেয়ারগুলো একটার পর একটা ফাঁকা রেখে যাত্রীদের বসতে দেওয়া হচ্ছে। তবে ঢাকায় আসা লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
গাদাগাদি করে যাত্রী নিলেও সরকার ঘোষিত হারে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়েছে । এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে মারামারিও অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
সোনার তরী-২ লঞ্চ চাঁদপুর থেকে ছেড়ে বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে সদরঘাটে এসে পৌঁছে। লঞ্চটির ধারণক্ষমতা ৫২৯ জন এবং তার অর্ধেক হলে সে সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬৫ জনে।
কিন্তু বাস্তবে প্রায় সব আসনেই যাত্রী দেখা যায়। অন্যান্য জায়গাতেও গাদাগাদি করে যাত্রী দেখা যায়। তবে অর্ধেকের কম ২৩৫ জন যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি সদরঘাটে এসেছে বলে লঞ্চটির ব্যবস্থাপকের দাবি।
বাড়তি ভাড়া নিয়ে এই লঞ্চের যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একজন যাত্রী বলেন, “স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলে ডেকের ভাড়া ১৮০ টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাত্রীতে ঠাসা ছিল- এটা অবিচার।”
এদিকে সাব্বির রহমান পরিবার নিয়ে চাঁদপুরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ঈদে যেতে পারিনি লকডাউনের কারণে। আর অন্য কোন উপায়ে যাওয়ার সাহস করিনি। এখন যেতে পারছি, সত্যিই অনেক ভালো লাগছে।
ভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে গত ৫ এপ্রিল সরকার লকডাউনের বিধিনিষেধ আরোপ করলে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরকার রোববার দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনে বিধিনিষেধ শিথিল করলে সোমবার থেকে লঞ্চ চালানোর ঘোষণা দেয় বিআইডব্লিউটিএ।


