
প্রকাশিত,১৯, জুন,২০২২
মেহেদী হাসান শাহীন
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ডের নাওজোড় মোলাপাড়া মরহুম ফাইজুর রহমান সড়ক এবং তার শাখা সড়ক সহ নিচু বাড়িঘর বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। জনদুভ্যের্গ নিরসনের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
শ্যামল বাবুর বাড়ির সামনের একমাত্র প্রবেশের রাস্তা ও আশেপাশের বাড়ির রাস্তা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতের তীব্র শব্দে ঘুম ভেঙে দেখেন, তার বাসা পানিতে তলিয়ে গেছে। সোফা সেট-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পানির নিচে, রান্নার পাত্র-বাসন পানিতে ভাসছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) ভোরে বৃষ্টিতে নগরীর নাওজোড়ের মোল্লাপাড়ার নিচু বাড়িঘড় সহ বেশ কয়েকটি এলাকা এভাবেই পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। সাত সকালেই এসব এলাকার বিভিন্ন বাড়ি ও রাস্তা নিচতলার বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় কর্মজীবী মানুষকে রাস্তায় নেমে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
ভোরের দিকে প্রায় দুই ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নগরীর অলিগলিতে বৃষ্টির পানিতে এলাকায় জলাবদ্ধতা কোথাও গোড়ালি সমান, কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানি ওঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই পানি জমে ছিল। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেঘ কেটে রোদ ওঠে। এসময় অনেক এলাকায় পানি নেমে গেলেও নাওজোড় মোলাপাড়ার নিচু বাড়ি ঘরে জমেই থাকে পানি। বৃষ্টিতে নালা থেকে ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় এসে পড়ে। এতে রাস্তা দিয়ে হাঁটতেও বিপাকে পড়তে হয়েছে।
নাওজোড় মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মজিদ মিয়া দৈনিক দেশ সময়কে বলেন, আমাদের এলাকায় আগে কখনো পানি ওঠেনি। ২০১৯ সাল থেকে আমরা এই সমস্যায় পড়েছি। স্থানীয় একটি জেকে স্পিনিং কারখানার ব্যবহৃত বজ্য ময়লা আবর্জনা পানি ও বৃষ্টির পানি কোন দিক দিয়ে বের হতে না পেরে আমাদের এলাকা বা বাড়ি ঘরে জোয়ারের পানির মতো হয়ে আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যায়। শুকনো মৌসুম, বর্ষা মৌসুম— সবসময় রাস্তায় পানি ওঠে, বৃষ্টি বেশি হলে বাসায় পানি ঢুকে যায়।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনের জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র বরাবর স্মারক লিপি প্রধান করা হয়েছে। যাতে আমাদের বাড়িঘর সহ এলাকাবাসী সকলেরই সমস্যা দূর হয় এবং বেশি বৃষ্টি হলে নালার সব ময়লা পানি বাসায় ঢুকে গেছে। দুর্গন্ধে বাসায় থাকার কোনো উপায় নেই।’
একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা করিম খান দৈনিক দেশ সময়কে বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতর পানি প্রবেশ, রাস্তায় হাটু পর্যন্ত পানি থাকে এবং অলিতে গলিতে পানি থাকে গত বৃহস্পতিবার ভোরের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এখানে গত বছর নালা তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরি করে দিয়েছিল কিন্তু গার্মেন্টসর ময়লা আবর্জনা ও বজ্যের কারণে সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এখন বেশি বৃষ্টি হলেই নালা উপচে পানি রাস্তায় এসে পড়ে, বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে।
উল্লেখ্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুল রহমান কিরণ বরাবর স্মারক লিপি প্রধান করা হয়েছে এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরকে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে এর প্রতিক্রিয়ায় কোনো রকম আশ্বাস পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ডের নিজের নির্বাচনী এলাকা নাওজোড় মোল্লাপাড়া। তিনি এই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিন বছর ধরে চলা ভোগান্তি নিরসনে এলাকার লোকজন কয়েকবার মেয়র ও কাউন্সিলর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
মকবুল মিয়া দৈনিক দেশ সময়কে বলেন কাউন্সিলরের কাছে গেলে বিভিন্ন রকম তালবাহানা শুরু করেন এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য আশ্বাস দেন কিন্তু কিছুই করে দেন না। কিন্তু তিন বছর ধরে আমরা নরক যন্ত্রণা ভোগ করছি। ভাড়াটিয়ারা সবাই বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
জাহিদ হাসান দৈনিক দেশ সময়কে বলেন প্রতিবছর সিটি কর্পোরেশনের রিসিট অনুয়ায়ী ইনকাম টেক্স দিয়ে যদি সেবার নমুনা এই।
তাহরে কার কাছে যাব, কোথায় গেলে এর প্রকৃত সমাধান পাব তা বুজতে পারতেছিনা, আমার বাসায় পানি প্রবেশ করে আমরা পানি বন্দী হয়ে আছি বাড়িঘরের ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে দিচ্ছে, চলে যাচ্ছে আমরা এখন কি করব।


