
প্রকাশিত,১০, এপ্রিল,২০২৩
সোহানুর রহমান শিপন, কুষ্টিয়া দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বাবলু ও তার বডিগার্ড চঞ্চল ও শাহীনের বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে একই ব্যক্তির নামে দুটি মৃত্যু সনদ ইস্যু করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি, ঝাউদিয়া গ্রামের মৃত দেলবার মালিথার পুত্র ছুরাপ জান এর প্রাপ্ত মৃত্যু সনদ ও ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ থেকে জানাযায়, মাত্র কয়েক মাসের ব্যাবধানে রিফাইতপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত ছুরাপ জান এর অফিসিয়াল (অনলাইনে) পর পর দুটি মৃত্যু সনদ প্রদান করেছেন । যে দুটি মৃত্যু সনদেই স্বাক্ষর করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বজলুর রহমান ও চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বাবলু।
এদিকে প্রথম মৃত্যু সনদ ও দ্বিতীয় মৃত্যু সনদের মাঝের সময় ছুরাপ জানকে জীবিত দেখিয়ে তার কয়েকজন স্বজন ছুরাপ জানের জমি রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জীবিত দেখিয়ে রেজিষ্টিকৃত জমির দলিল এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
রিফাইতপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বাবলুর ঘনিষ্ঠ ও বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত চঞ্চল ও শাহিন, চেয়ারম্যান ও সচিব এর যোগসাজসে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছুরাপ জানের কয়েকজন স্বজনকে ২য় মৃত্যু সনদ ইস্যু করেছেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বাবলু জানান, ডাবল মৃত্যু সনদ দেওয়ার কথা না। কেউ হয়ত প্রতারণা করে এমনটি করতে পারে। অনলাইন কপি দুটি মৃত্যু সনদ কিভাবে হলো জানতে চাইলে তিনি কোন সদউত্তর দিতে পারেননি। চঞ্চল ও শাহীনের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন ওরা আমার কাছের মানুষ টাকা নিয়েছে কি না খোজ নিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নিবো।
একই ব্যাক্তির নামে দুটি মৃত্যু সনদ ইস্যু করার ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বজলুর রহমান বলেন আমাদের অসতর্কতায়, স্থানীয় মেম্বার ও মৃত ব্যাক্তির পরিবারের একজনের প্রতারণার কারনে দুটি মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা বরাবর বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনলাইনে একই ব্যক্তির দুটি মৃত্যু সনদ কিভাবে ইস্যু হলো প্রশ্ন করা হলে তিনি চুপ থাকেন।
উৎকোচের বিনিময়ে ২য় মৃত্যু সনদ ইস্যু করিয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত চঞ্চচল প্রথমে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে জানান এটা চেয়ারম্যান ও সচিব মহোদয় বলতে পারবেন, দুটি মৃত্যু সনদেই তাদের দুজনের স্বাক্ষর আছে।
এদিকে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা তবে কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রিফায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে ১ টি মৃত্যু সনদ বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মৃত্যু সনদ বাতিলের কোন আবেদন আমার কাছে আসেনি।


