
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
হাসান মামুন ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতি করেছেন। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। এরপর নিজ এলাকা গলাচিপায় দীর্ঘদিন রাজনীতি করেন। মাঠ তৈরি করেন। তৃণমূল পর্যায়ে তার রয়েছে বিপুল জনসমর্থন। তা হওয়া সত্ত্বেও দল পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। ফলে বিএনপি জোটের ভোট ব্যাংক মূলত নুরের পক্ষে চলে যায়।
আর এটাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে হাসান মামুনের পরাজয়ের প্রধান কারণ।
মূলত জোটের রাজনীতি ও দলীয় সিদ্ধান্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়, এরপর গলাচিপা-দশমিনা আসনের সব বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়; যা তার রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
হাসান মামুনকে স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ সমর্থন দিলেও জোটের প্রার্থীর (নুরুল হক নুর) পক্ষেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোট ছিল। এই ভোট বিভাজন জয়ের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
‘বিদ্রোহী’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ফলে তিনি মূল দলীয় প্রতীকের (ধানের শীষ) পরিবর্তে স্বতন্ত্র প্রতীক (ঘোড়া) নিয়ে লড়েন, যা অনেক সাধারণ ভোটারের কাছে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
নির্বাচনে প্রচার চলাকালে হাসান মামুনের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং তার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করার অভিযোগও পাওয়া যায়, যা তার প্রচারণাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
গলাচিপায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুরোনো মামলা ও নতুন করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বেশ কিছু ঘটনা ঘটে; এতে করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভিপি নুরুল হক নুরের দিকে ডাইভার্ট হয়ে যায়। গত ৫ আগস্ট এর পরে তৃণমূল-বিএনপির চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ লোকজন তাদের উপর আস্থা হারিয় ফেলে।
আওয়ামী লীগ ভোটারদের প্রভাব দীর্ঘ ৪৬ বছর পর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকায় তাদের অনুসারীদের একটি বড় অংশ জয়ের নির্ধারক হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত বিজয়ী প্রার্থীর অনুকূলে গিয়ে দাঁড়ায়।



