print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,০৩, নভেম্বর,২০২২

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাস প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা তিতাস উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা পারভীন বানুর বিরুদ্ধে অনিয়ম- দুর্নীতি ও শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক শিক্ষিকাসহ প্রায় ৪০০ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, কুমিল্লা-২ এর সংসদ সদস্য, শিক্ষা সচিব, মহাপরিচালক, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়- উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের স্লিপ ও রুটিন মেরামত থেকে ১ হাজার থেকে ৩০০ টাকা, ক্ষুদ্র মেরামত থেকে ২ হাজার টাকা এবং অন্য খাত থেকে ২ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে নানান অজুহাতে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পরিদর্শন বই ও টাকা নিয়ে অফিসে ডেকে পাঠান। প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় কোন ন্যায্য দাবির কথা বলা যায় না, কথা বলতে চাইলে ধমক দিয়ে বসিয়ে দেন। তিনি শিক্ষকদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন, খারাপ আচরণ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি অবৈধ উপটৌকন ছাড়া শিক্ষকদের বকেয়া বেতন ভাতা, চিকিৎসা জনিত বকেয়া বিল, পাশ করেন না।
এখনও কিছু শিক্ষকের ১৩-তম গ্রেডের বকেয়া বেতন ভাতা প্রদান করেন নি। তিনি ঢাকা থেকে এসে নিয়মিত অফিস করেন না।

যার ফলে শিক্ষকরা সময়মত অফিসিয়াল কাজ শেষ করতে পারেন না। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পরিদশর্নে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষকদের বিভিন্ন অজুহাতে অপমান করেন।
তিনি প্রায়ই নিজের চেয়ার ছেড়ে অফিস সহকারিদের কক্ষে গিয়ে বসে থাকেন, যার ফলে শিক্ষকগণ প্রায়ই ব্রিবত বোধ করেন। তিনি প্রায়ই মিড-ডে মিলের কথা বলে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দুপুরের খাবার সেরে ফেলেন।
শিক্ষকগণ উচ্চতর পড়ালেখা করার জন্য পরীক্ষার অনুমতি নিতে গেলে তাকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়। তিনি প্রায়ই শিক্ষকদের বিভাগীয় মামলা করার ভয় দেখায়। চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষক দিবসে তিতাস উপজেলা শিক্ষক অফিসার কোন শিক্ষককে অংশগ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে তিতাস উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা পারভীন বানু বলেন,তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত, তিনি আরও বলেন আমি তিতাসে যোগদানের পর থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি এবং শিক্ষকরা ক্লাস ফাকি দেওয়া, ক্লাসে ঠিকমতো না পড়ানোসহ বিভিন্ন অনিয়ম না করতে পেরেই কিছু শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্র করছে।

অভিযোগ কারীদের মধ্যে জিয়ারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য মো.শাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা পারভীন ভানু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খাত থেকে টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে খারাপ ব্যবহার করাসহ গালমন্দ করেন। তাই আমরা প্রতিকার চেয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম মোর্শেদ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি, বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করবো।