print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,২৬, ডিসেম্বর,২০২২

মেহেদী হাসান শাহীন
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় হাজী আব্দুর রহিম সুপার পাইকারি কাপড়ের মার্কেটে আগুন লেগে ছোট বড় প্রায় চার শতাধিক দোকান পুড়ে গেছে। এতে কয়েকশো কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল রোববার (২৫ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ওই পাইকারি কাপড়ের মার্কেট আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট রাত ১২ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে কোন হতাহতের খবর, ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রহিম সুপার পাইকারি মার্কেটে ছোট বড় প্রায় ৪০০ দোকান ছিল। এসব দোকানে শাড়ি, লুঙ্গি, শীতের কাপড়, থান কাপড়, কম্বলসহ যাবতীয় পোশাক পাইকারিতে বিক্রি করা হয়। গতকাল রাতে সবাই দোকান বন্ধ করে চলে গেলে হঠাৎ মার্কেটে আগুন লাগে। দোকানগুলো একটির সঙ্গে অপরটি লাগানো হওয়ায় মুহূর্তে মধ্যে আগুন পুরো মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু দোকানে কাপড় অবশিষ্ট থাকলেও তা ব্যবহার উপযোগী নেই।

ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি শেষ হয়ে গেছি। আমার দোকান রয়েল ফেব্রিকসে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাপড় ছিল। আগুনে সব পুড়ে গেছে। এখন আমি কি করবো, আল্লাহ আমার এতো বড় ক্ষতি কিভাবে সামাল দেবো।’

জামির উদ্দিন নামের অপর এক দোকানদার বলেন, ‘কাপড়, চাদর ও থ্রি-পিসের দোকান ছিল আমার। দোকানে ২০-২৫ লাখ টাকার কাপড় ছিল। কিন্তু সব পুড়ে গেছে। ঢাকায় নতুন কাপড় উঠাবো বলে দোকানেই টাকা রেখে বাসায় গেছিলাম। আগুন লাগার খবর যখন পেলাম ততোক্ষণে মালামাল, টাকা পয়সা সবই আগুনে খাইয়া ফেলছে। শুধু আমি একা নয় আমার মতো সবারই সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’

হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি কাপড়ের মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী আব্দুল মতিন বলেন, ‘দোকান ও ভিটসহ ৪০০ ব্যবসায়ী মার্কেটে ব্যবসা পরিচালনা করতো। শীতের বিভিন্ন ধরনের কাপড়সহ শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি পিস, ওড়না, কম্বলসহ সব দোকানেই মালামালে পরিপূর্ণ ছিল। প্রতিটি দোকানে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। এবার হিসেব করেন কতো কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্থদের অনেকেই ঋণ করেও কাপড়ের ব্যবসা করতেন। অল্প কয়েকজনের ব্যক্তিগত বিমা করা থাকলেও অধিকাংশের নেই। আগুন কিভাবে লেগেছে এখনো তা জানা সম্ভব হয়নি।’

মার্কেটে থাকা এস টি এল গার্মেন্টস নামের তৈরি পোশাকের দোকানের মালিক মুক্তার হোসেন জানান, আগুন লাগার পর দোকানের মালিক ও লোকজন কাপড় উদ্ধার করে বাইরে রাখার পর সেখান থেকে ও দোকান থেকে উদ্ধার করার নামে মালপত্র লুটপাট হয়েছে। মালপত্র এছাড়াও একশ্রেণীর লোকেরা দোকানে থাকা ক্যাশের নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

একই কথা বলেন, কাজী গার্মেন্টসের দোকান মালিক জয়নাল কাজী । তিনি বলেন, তার দোকানে ৮০/৮৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল এবং ক্যাশে ছিল নগদ ৩ লাখ ২ হজার ৮শ’ টাকা। সোমবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানে গিয়ে দেখেন তার ক্যাশে থাকা নগদ তিন লাখ টাকা নেই। মালামাল ও পুড়ে গেছে। সুযোগ বুঝে এক শ্রেণীর লোক উদ্ধার করার নামে দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লহ আল আরেফিন বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ও টঙ্গীর দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। মার্কেটের রাস্তা খুব সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শেষ করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তারপরও আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দোকানে বিভিন্ন ধরনের কাপড়ে পরিপূর্ণ ছিল। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের জানা যাবে।