
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ও চর কপালবেড়া সংযোগ খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন এলাকাবাসীর কাছে এক আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন সংস্কারহীন পড়ে থাকা জরাজীর্ণ এই লোহার সেতুটি বর্তমানে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই ভাঙাচোরা সেতু দিয়েই চলাচল করছেন হাজারো মানুষ, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং পণ্যবাহী যানবাহন।
জোড়াতালির মেরামত ও দুর্নীতির অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগে সেতুটি দুই দফা সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু নামমাত্র মেরামত, কাজের নিম্নমান ও দুর্নীতির কারণে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। লোহার কাঠামো ভেঙে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে কাঠ দিয়ে কোনোমতে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও বর্তমানে তাও ভেঙে পড়ার উপক্রম। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি আবারও আগের মতো বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের হুঁশিয়ারি
এলাকাবাসীর এই চরম দুর্ভোগ লাঘবে এবং দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. কামরান হোসেন। তিনি অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
কামরান হোসেন বলেন:
“চর বিশ্বাস ও চর কপালবেড়া এলাকার মানুষের যাতায়াতের প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতুটি। বর্তমানে এটি এতটাই নড়বড়ে যে, প্রতিদিন মানুষ আতঙ্ক নিয়ে এর ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে। আমরা চাই বরাদ্দকৃত বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত একটি স্থায়ী ও মানসম্মত সেতু নির্মাণ করা হোক। আর কোনো লোকদেখানো মেরামত আমরা চাই না।”
বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর অনেক জায়গায় কাঠ পচে গেছে এবং লোহার বিমগুলো মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে। এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি হতে পারে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও শিশুদের নিয়ে পারাপার হওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—আর কোনো অবহেলা নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই জনপদের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করেন।



