print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,১০, জানুয়ারি,২০২২

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

আজমিরীগঞ্জ গরুর বাজার থেকে প্রতি হাটবারে নগদ টাকার বিনিময়ে রশিদবিহীন গরুর চালান বিদায় হচ্ছে। এতে করে পৌরসভার ও রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অপরদিকে লাখ লাখ টাকা লোপাট করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে পৌরসভার গুটিকয়েক কর্মচারী। এ পর্যস্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে জড়িতরা।
জানা যায়,
আজমিরীগঞ্জ পৌরসভাধীন গরুর বাজারের প্রতি হাটবার অর্থাৎ প্রতি রবিবারে খাজনা উত্তোলন করেন পৌরসভার কর্মচারী সহ মোট ১১ জন। এদের মধ্যে কেহ টাকার বিনিময়ে রশিদ প্রদান, কেহ চেকিং আবার কেহ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা সহ রক্ষণাবেক্ষণের দ্বায়িত্ব পালন করছে। আজমিরীগঞ্জ গরুর বাজারে প্রতি রবিবারে গরুর হাট বসে। এ প্রেক্ষিতে পাইকার ও বিক্রেতারা সিলেটের শেরপুর, বালাগঞ্জ, রানীগঞ্জ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ চুনারুঘাট, বাহুবল, বানিয়াচং সুনামগঞ্জের শাল্লা কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, কুলিয়ারচর ও ইটনা থেকে এসে থাকে। এদের মধ্যে দূরবর্তী পাইকার ও বিক্রেতারা আগেরদিন শনিবারে ওই বাজারে এসে রাত্রি যাপন করে, পরদিন রবিবারে হাটে অংশ নেয়। অনুমানিক প্রায় ২ বছর ধরে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক গরুর বাজারের খাজনা উত্তোলন করছে।

২ বছর পূর্বে প্রায় সোয়াকোটি টাকায় গরুর বাজার ইজারা নিয়েছিল আজমিরীগঞ্জ ১ নং সদর ইউনিয়নের বিরাট ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান আতরআলী মিয়ার পুত্র আল আমিন। পরবর্তীতে উক্ত গরুর বাজার সর্বোচ্চ দরদাতা কেউ না থাকায় পৌরসভা কর্তৃক খাজনা উত্তোলন করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, হাটবারের আগের দিন শনিবারে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ ও কুলিয়ারচরের গরু নিয়ে আসার পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠের দুই দিকে দু’ভাগ করে গরুগুলো রাখা হয়। সারাদিন গরু বেচাকেনা করে রশিদ কেটে বিকাল ৫ টায় চলে যায় দ্বায়িত্বরত ৫ কর্মচারী।

রশিদবিহীন নগদ টাকার বিনিময়ে গরুর চালান বিদায় করে বলে অভিযোগ উঠেছে বাকিদের বিরুদ্ধে। সূত্র আরও জানায়, গত ২ জানুয়ারি রবিবারে একই কায়দায় ৯৩ টি রাখা হলে, এ নিয়ে গরুর বাজারে গুঞ্জন শুরু হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দের নিকট রশিদবিহীন নগদ টাকার বিনিময়ে গরুর চালান নেয়ার বিষয়টি পাইকারা স্বীকার করে। একই দিন ভোররাতে গরুর চালান নিয়ে চলে যায় পাইকাররা। এতে করে লাখ লাখ টাকা লোপাট হচ্ছে।

পৌরসভা সহ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অপরদিকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। তবে জড়িতরা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা সালেহা সুমি, বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।