
প্রকাশিত,১২ এপ্রিল, ২০২১
তপন দাস
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ঃ
অর্থের অভাবে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নীলফামারীর তিন কৃতি সন্তান রাব্বি, অতুল ও রিফাত হোসেনের।
মেডিকেলে ভর্তি সুযোগ পাওয়ার পর ও, মেডিকেলে ভর্তি হতে পারছে না আর্থিক দৈনতার কারনে।
ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন টাও আজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তাই মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচেছ এই তিন বন্ধু।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার সৈয়দপুর সরকারী বিঙ্গান কলেজ থেকে এবার মেধা তালিকা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ৪০ জনের মধ্যে এরাই অতি গরীব পরিবারের সন্তান।
এদের মধ্যে রাব্বি হোসেন সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়ার আব্দুর রশিদ ফাহমিদা আক্তার এর তৃতীয় ছেলে । বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা , পেনশনের টাকায় চলে কোন রকম তাদের পরিবার। আর রাব্বি হোসেন এবার ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
এদিকে অতুল চন্দ্র বর্মণ পঞ্চগড় জেলায় বোদা উপজেলার সাকোঁয়া ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের দিনমজুর নবকুমার ও অন্যের বাড়িতে গৃহিণীর কাজ করা বাতাসি রানীর দ্বিতীয় ছেলে।
অন্যের বাড়িতে কাজ করে ও দিনমজুর করে যে টাকা পায় তাতে কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে চলে তাদের পরিবার ।
নবকুমার ও বাতাসি রানী দুজনেই নিরক্ষর হওয়ার পরেও তাদের একমাত্র ছেলে কে মানুষের সেবা করার বানাতে চায় ডাক্তার কিন্তু অর্থের অভাবে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের একমাত্র ছেলের, ।
অতুল বগুড়ার শজিমেক এ এবার ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
অন্য দিকে মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা আদর্শপাড়ার আলতাফ ও রুবিনার ছোট ছেলে রিফাত হোসেনের । বাবা রাইস মিল চাতালে কাজ করে যা পায় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তাদের পরিবার ।
তাই রিফাত হোসেনের ও মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
রিফার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবার ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ।
এবিষয়ে সৈয়দপুর সরকারী বিঙ্গান কলেজের অধ্যক্ষ জনাব গোলাম আহমেদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন এবার এই কলেজ থেকে শত ভাগ পাস করেছেন, এবং ৪০ জনের ও বেশি ছাত্র ছাত্রী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ।
আর এই ৪০ জনের মধ্যে এই তিন জনেই অতি হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিল। কিন্তু তারা খুবেই মেধাবী ও পরিশ্রমি ছিলেন৷ কলেজে পড়ার সময় আমি তাদের কে অনেক ভাবে সাহায্য করছি।
আর এই মেধাবী ও প্রতিভাবান তিন শিক্ষার্থী দারিদ্র্যের কারনে যেন হারিয়ে না যায়। আর আমি তাদের লেখাপাড়ার দায়িত্ব নেয়ার জন্য বৃত্তবানদের প্রতি অনুরোধ করবো।


