

প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস,গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
তালগাছ থেকে অর্ধশতাধিক বাবুই পাখির বাসা ও ডিম ধ্বংসের ঘটনার একদিন পর, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৩০ জুলাই) পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড উত্তর আমখোলা গ্রামে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সময়ের কন্ঠস্বরে নিউজ হাওয়ার পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পটুয়াখালীর উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম, গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান এবং বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মেস্ত্রী। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ সদস্য, এ্যানিমল লাভারস অফ পটুয়াখালীর সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধার কর্মী আসাদুল্লাহ হাসান মুসা ও অন্যান্য সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে অভিযুক্ত কৃষক সিদ্দিক মোল্লাকে ডেকে আনা হয়। জানা গেছে, তিনি চার সন্তানের জনক এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে, তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকায় তিনি ভবিষ্যতে আর কখনো বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভেঙে ফেলা বাবুই পাখির বাসাগুলো আবার গাছে প্রতিস্থাপন করবেন।ফ্যামিলি ট্যুর প্যাকেজ
আসাদুল্লাহ হাসান মুসা বলেন, ‘কৃষক সিদ্দিক মোল্লার ধানক্ষেতের পাশের তালগাছে বাবুই পাখি এসব বাসা বুনন করেছিল। কৃষক সিদ্দিক মোল্লা এ সব বাসা ভেঙে ফেলেছেন। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করি। পরে বৃহস্পতিবার বাসাগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।’
উপকূলীয় বন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে ১২টি বাবুই পাখির ডিম ও ১২টি বাসা উদ্ধার করি। আমরা ঘটনাস্থলের পাশে একটি স্কুলে এর আগে সচেতনতা মূলক সভাও করেছিলাম। তারপরও এমন একটি কাজ হলো যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা তাদের আবারও সতর্ক করে যাবো বন্যপ্রাণী ও তাদের আবাসস্থল যাতে নষ্ট না করা হয়। আমরা ভেঙে যাওয়া বাসা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করবো।
গলাচিপা ইউএনও মাহামুদুল হাসান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সবকিছু সরেজমিনে পর্যালোচনা করেছি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে অভিযুক্তকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি তার কাজের জন্য অনুতপ্ত এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এমন কাজ আর করবেন না। আমরা আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতেও প্রস্তুত। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন নজর রাখছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই দুপুরে ধানক্ষেত রক্ষার অজুহাতে তালগাছ থেকে বাবুই পাখির অর্ধশতাধিক বাসা ও ডিম ভেঙে ফেলেন স্থানীয় কৃষক সিদ্দিক মোল্লা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয় এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।


















আপনার মতামত লিখুন :