
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
স্বপ্ন, অধ্যবসায় এবং শিক্ষার প্রতি অদম্য ভালোবাসা মানুষকে পৌঁছে দিতে পারে সাফল্যের নতুন শিখরে। তারই এক উজ্জ্বল ও অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার কৃতী সন্তান শারমিন লিজা। জীবনের নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তিনি এখন যুক্ত হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।
শিক্ষাজীবন ও শিক্ষকতার উজ্জ্বল অধ্যায়:
শারমিন লিজা বাংলাদেশের কুষ্টিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্ত হন শিক্ষকতা পেশায়। দীর্ঘ ৬ বছর বাংলাদেশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিষ্ঠার সাথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আলো ছড়িয়েছেন তিনি। শিক্ষাদানের পাশাপাশি নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে সবসময় লালন করেছেন মনের গভীরে।
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা:
শিক্ষার পরিধি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিস্তৃত করতে পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (AI) থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। মূলধারার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজের দক্ষতাকে আরও সুদৃঢ় করেন তিনি।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পথচলা:
বর্তমানে তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে The Economic Impacts of Artificial Intelligence শীর্ষক কোর্সে অধ্যয়ন করছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যতের সমাজব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন ও গবেষণা করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
নিজের এই সাফল্য ও অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শারমিন লিজা বলেন, “অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া আমার শিক্ষাজীবনের একটি অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়া। বাংলাদেশ থেকে শুরু হওয়া আমার এই শিক্ষাজীবন আজ অক্সফোর্ডের শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই পুরো যাত্রায় আমার বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অপরিসীম ত্যাগের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাঁদের দোয়ায় আজ আমি এখানে পৌঁছাতে পেরেছি।”
তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা:
শারমিন লিজার এই অনন্য অর্জন প্রমাণ করে অদম্য ইচ্ছা, সততা এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো প্রান্তিক অঞ্চল থেকেও সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বার্তা দেন যে, আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষার প্রতি অনুরাগকে সঙ্গী করলে সাফল্যের পথ কেউ রুদ্ধ করতে পারে না।
পটুয়াখালীর গলাচিপার এই কৃতী কন্যার বিশ্বমঞ্চে এমন সাফল্য গোটা দেশের জন্যই এক মহা আনন্দের ও গৌরবের বিষয়। তাঁর এই গৌরবোজ্জ্বল পথচলা আগামীর তরুণ শিক্ষার্থীদের সামনে এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।



