
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, , গলাচিপা (পটুয়াখালী)
ঘূর্ণিঝড়ের আগাম খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারের খোঁজ খবর নিয়েছেন। এ ছাড়াও উপজেলা কৃষি বিভাগও সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। কৃষিবিভাগ জানায় ঝড়ে ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না বলে ধারণা করছেন তারা। এদিকে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়েছে। এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে ঘ্ূর্ণিঝড়টি সৃষ্টির পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সঙ্কেত নামিয়ে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড় আকারে আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া ছয় নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ছয়টায় ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিলো। একই সময়ে এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিলো।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এদিকে উপকূলীয় এলাকা থেকে জানা গেছে, পটুয়াখালীর গলাচিপা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় সোমবার সকাল থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক ছিলো। রোদের দেখা মিললেও নদ-নদী শান্ত এবং সাগর ধীরে ধীরে উত্তাল হতে শুরু করেছে। তবে এ আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলেনি স্বাভাকি জীবন যাত্রার উপর। তবে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
ফসলের বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আকরামুজ্জামন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আমাদের এ এলাকায় মনে হয় তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না। এছাড়া আমন ধান এখন মাঠে রয়েছে। হাল্কা পাতলা বৃষ্টি হলে উল্টো ধান ভালো হবে। এর পরেও আমরা সতর্ক রয়েছি।



