print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় পাওনা টাকা চাইতে গেলে স্বামী-স্ত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

সোমবার উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়াডে লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে। আহত শাহালম ব্যাপারীর ছেলে সুজন ব্যাপারী (১৯) বলেন, আমার বাবা-মা উভয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী হওয়ায় প্রতিদিনের ন্যায় গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৪ টায় দিকে চরকাজল খেয়াঘাট থেকে নামার পর প্রতিপক্ষ আলম মীর তার ছেলে আরিফ মীরসহ কয়েকজন মিলে আমার বাবা-মায়ের পথরোধ করে আলম মীরের দোকানে নিয়ে গিয়ে আমার বাবা শাহালম বেপারী (৪৭) ও মা রশনা বেগমকে (৩৭) একপর্যায়ে ব্যাপক মারধর শুরু করলে স্থানীয়রা আমার বাবাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং আমার মাকে মারধর করে ।

বেঁধে রেখে নির্যাতন করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গলাচিপা থানার ওসি একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার সাধারণ ডাইরি নাম্বার ১০৬৪। শাহআলম ব্যাপারী হচ্ছেন এক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় শিবা গ্রামের মৃত মতলেব ব্যাপারীর ছেলে । ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। আহত শাহআলম বেপারী বলেন, প্রায় তিন বছর আগে আমার কাছ থেকে আলম মীর তিন লক্ষ টাকা ধার হিসেবে নেন। আমাকে স্টাম ও জাতীয় ভোটার আইডি কার্ড, ছবি দিয়ে যায়।আমি টাকা চাইতে গেলে দেই দিচ্ছি দেই দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকে। আমার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে মামলাও দিয়েছে। আমিও তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমি বন্যাতলী থেকে খেয়ায় কাজল পার হলে আমাকেও আমার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে তার দোকানের ভিতরে ঢুকিয়ে বেদম মারধর করে। পরে তিনশো টাকার স্ট্যাম্পে জোর করে আমাদের কাছ থেকে স্বাক্ষ করলে আমাদের ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহত রশনা বেগম কান্না কন্ঠে বলেন, আমার স্বামীকে মারধর করে আমাকে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেছে। তলপেটে লাথি দিয়েছে। আমি এখন গুরুতর আহত আমি ও আমার স্বামী শাহ আলম ব্যাপারী দুজনই হাসপাতালে ভর্তি আছি। গলাচিপার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার নোমান পারভেজ বলেন, স্বামী স্ত্রী আমার চিকিৎসা দিনে তৃতীয় তলায় ৫ ও ৬ নং বেডে ভর্তি আছে। প্রতিপক্ষ আলম মীরের কাছে মুঠো ফোনে জানতে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইউপি সদস্য শিয়াব হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন,বিষয়টি নিয়ে যদিও আদালত চলমান তার পরেও ঘটনাটি আমি শুনেছি দুই পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে মীমাংসার ব্যবস্থা করব। গলাচিপা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।