প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ব্যবহার করে হরিদেবপুর খেয়াঘাট দখল, ভিডিও ভাইরাল!


দেশ সময় প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৩-১৯, ১১:৫১ অপরাহ্ন /
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ব্যবহার করে হরিদেবপুর খেয়াঘাট দখল, ভিডিও ভাইরাল!
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

গলাচিপা,পটুয়াখালী, প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাটে সম্প্রতি সংঘটিত এক সহিংস দখলের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে প্রভাবশালী একটি মহল খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপকসহ ইজারাদারের লোকজনকে মারধর করে টোলের নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়েছে এবং ঘাট দখল করে নিয়েছে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত ভাইরাল হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দখলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা নির্বাচনের আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে হামলার সময় তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের নাম ব্যবহার করেছেন।

খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপক দীপু সাহা জানান, “স্থানীয় সোহেল আকন ও তালেবের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ঘাটে এসে আমাদের মারধর করেছেন। পরে সারা দিনের টোল আদায়ের প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে আমাদের ঘাট থেকে বের করে দিয়েছেন।

দীপু আরও জানান, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও দখলকারীরা আবার ঘাটে হামলা চালায়, ফলে নিরাপত্তার কারণে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হন।

ইজারাদার শিবু লাল দাস বলেন, “জেলা পরিষদের মাধ্যমে আমি বৈধভাবে খেয়াঘাটের ইজারা পেয়েছি, যা ৩০ চৈত্র পর্যন্ত বৈধ। তবে দখলকারীরা আমাদের মারধর করে টোলের টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘাট দখল করেছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করলেও এখনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, গলাচিপা ছাত্রঅধিকার পরিষদের তরিকুল ইসলাম ও তার লোকজনও এই দখলের সঙ্গে জড়িত। তবে তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি অন্য একটি খেয়াঘাটে ব্যস্ত ছিলেন এবং কোনো অংশগ্রহণ করেননি।

ঘটনার বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের নদী পারাপারে ভোগান্তি না হয়। খেয়াঘাটের টোল আদায়ের বিষয়টি জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান (সোহেল) বলেন, ইজারাদার শিবু লাল দাস বৈধ টোল আদায় করছেন। দখলের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ যৌথভাবে সমাধান করবে।

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর অভিযোগে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “যারা আমার নাম ব্যবহার করে আইনের বাইরে কাজ করেছে, আমি তাদের দায়ভার নেব না। আইন সবার জন্য সমান।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে স্থানীয় নদীঘাটে নিরাপত্তা ও দখলমুক্ত টোল আদায়ের প্রয়োজনীয়তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে বিষয়টি নিয়ে জনমত তীব্র, এবং কর্তৃপক্ষের তৎপরতার দাবি আরও জোরদার হয়েছে।