
প্রকাশিত
আয়নাল ইসলাম।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন লংগাইর ইউনিয়নের কাজা গ্রামে ৫,বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের কারণে ভুক্তভোগী পরিবার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৫এপ্রিল) বিকেলে একই গ্রামের সোহাগ মিয়ার ৫,বছরের শিশু মেয়ে কে বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী মোঃ নয়ন মিয়ার ছেলে রাহাত (১৫), নবম শ্রেণির এক ছাত্র, শিশুটিকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত রাহাত ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর পাগলা থানা পুলিশ অভিযুক্তের বাবা নয়ন মিয়াকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভুক্তভোগী পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এমন জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে অপরাধপ্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পাগলা থানার এসআই আজারুল ইসলাম জানান, “এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী কোনো শিশু ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সম্মতির প্রশ্ন এখানে প্রযোজ্য নয় এবং ঘটনাটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
এ ঘটনায় মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



