গোপালগঞ্জে পাওনাদারদের চাপে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার অভিযোগ। পোস্টমর্টেম ছাড়াই লাশ দাহের চেষ্টায় উত্তেজনা, পুলিশের হস্তক্ষেপে হাসপাতালে পাঠানো।


দেশ সময় প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৩-১২, ৪:৪৬ অপরাহ্ন /
গোপালগঞ্জে পাওনাদারদের চাপে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার অভিযোগ। পোস্টমর্টেম ছাড়াই লাশ দাহের চেষ্টায় উত্তেজনা, পুলিশের হস্তক্ষেপে হাসপাতালে পাঠানো।
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

মোঃ শিহাব উদ্দিন , গোপালগঞ্জ জেলা  প্রতিনিধি। 

গোপালগঞ্জে পাওনাদারদের চাপ সহ্য করতে না পেরে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টমর্টেম ছাড়াই দ্রুত লাশ শ্মশানে দাহ করার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিধীন কুমার আঢ্য (৫০), যিনি “বিধান জুয়েলার্স”-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন পাওনাদারের চাপ ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, সেই চাপ থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ ও দেনাপাওনা নিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। পরিবার দাবি করেছে, এসব চাপ ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই নিধীন কুমার আঢ্য আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, যাদের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—

তন্ময় জুয়েলার্সের প্রোপ্রাইটর চৌধুরী আবুল কালাম আজাদ (৬৫),

পি কে জুয়েলার্সের ধ্রুবলাল বসু (৬০),

অহনা জুয়েলার্সের কার্তিক দাস এবং

রায়কো জুয়েলার্সের দেবু রায়।

ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা দ্রুত লাশ শ্মশানে নিয়ে গিয়ে পোস্টমর্টেম ছাড়াই দাহ করার প্রস্তুতি নেন বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ দাহের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরে পুলিশের তত্ত্বাবধানে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। আত্মহত্যার পেছনে কোনো প্ররোচনা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।