print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,২৫, জুন,২০২৩

বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন//

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ-সমাবেশে গুলিতে যুবলীগ কর্মী মোবারক হোসেন বাবু নিহতের ঘটনায় মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান এবং তার দুই ভাই কাজী হাবিবুর রহমান ও কাজী মতিনের জড়িত থাকার যে অভিযোগ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাজানো।

কারণ ঘটনাস্থল বাহাদুরপুর থেকে মামলার ১নং আসামি কাজী মিজানুর রহমানের বাসভবন প্রায় ১০ কিলোমিটারের দূরত্বে। এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় কাজী মিজান ও তার দুই ভাই বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। বাসভবন থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক সশরীরে পৌঁছে এ ঘটনা ঘটানো একবারেই অসম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে গত শনিবার (১৭ জুন) বিকেলে ওই প্রতিবাদ-সমাবেশের আয়োজন করেছিল মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। 

আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ-সমাবেশে যাওয়ার পথে গত শনিবার গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবলীগ কর্মী মোবারক হোসেন বাবু নিহতের ঘটনায় মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান এবং তার দুই ভাই কাজী হাবিবুর রহমান ও কাজী মতিনের জড়িত থাকার অভিযোগ আনে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। বাবু হত্যাকাণ্ডে হওয়া মামলায় কাজী মিজানুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি দেখানো হয় এবং গত রোববার দুপুরে মোহনপুরের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

বাবু হত্যাকাণ্ডে মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমানসহ তার দুই ভাইকে জড়িয়ে যে মামলা (নং ২০, তারিখ ১৮/০৬/২০২৩ইং) করা হয়েছে ওই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত শনিবার (১৭ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মোহনপুর ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা হাইস্কুলের মাঠে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বাহাদুরপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মীরা যাতে সভায় উপস্থিত হতে না পারে  সে জন্য গত শুক্রবার (১৬ জুন) দুপুরে মামলার এজাহার নামীয় ১নং আসামি কাজী মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অপর আসামি বাবুল বেপারীর ঘরে বসে সমাবেশ বানচাল করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন শনিবার (১৭ জুন) বিকেল ৩টার সময় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমানের নের্তত্বে তার সহযোগী আসামিগণ অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পথরোধ করে সমাবেশ না করার জন্য বাধা প্রদান করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। 

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ১নং আসামি কাজী মিজানুর রহমানের হুকুমে ২নং আসামি কাজী আব্দুল মতিন তার হাতে শর্টগান দিয়ে বাদীর ভাই মোবারক হোসেন বাবুকে একাধিক গুলিবর্ষণ করে। বাদীর ভাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে এসময় বাদীর ভাই মাটিতে পড়ে গেলে ৩নং আসামি কাজী হাবিবুর রহমান তার হাতের শর্টগান দিয়ে বাদীর ভাইকে গুলি করতে থাকে। এতে বাদীর ভাই নাকি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর জখমপ্রাপ্ত হন। যা সম্পূর্ণ মিথা ও ভিত্তিহীন তথ্য। এবং এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্যের উপর মামলার পুরো এজাহার সাজানো হয়েছে। কারণ এজাহারের কপিতে শনিবার (১৭ জুন) বিকেলের যে সময়ের উল্লেখ করা হয়েছে সে সময় ১নং আসামি কাজী মিজানুর রহমানসহ তার দুই ভাই কাজী হাবিবুর রহমান ও কাজী মতিন তাদের বাসভবনে অবস্থান করছিল বলে ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে। 

এজাহারে উল্লেখিত সময় বলা হয়েছে শনিবার (১৭ জুন) বিকেল ৩টার সময় ১নং আসামি কাজী মিজানুর রহমানসহ তার অপর দুই ভাই সশরীরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটায়। অথচ সিসিটিভি ফুটেজে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে ওইদিন বিকেল ৩টা ৪ মিনিটে ১নং আসামি কাজী মিজানুর রহমান তার মোহনপুর বাসবভনে অবস্থান করছেন। ২নং আসামি কাজী আব্দুল মতিন বিকেল ২টা ৫৮ মিনিটে তার মোহনপুর বাসবভনে অবস্থান করছেন। এছাড়াও ৩নং আসামি কাজী হাবিবুর রহমানও তার মোহনপুর বাসবভনে বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে অবস্থান করছেন।

এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত মামলার এজাহারে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাজানো।