print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,১৩, জুন,২০২৩

মোঃ নেওয়াজ মোর্শেদ নোমান,
জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক ও সন্ত্রাস। বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন সন্ত্রাস ও মাদকের বিস্তার রোধকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায়, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দীক আক্কেলপুরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক-সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে নির্মূলে কঠোর ভূমিকায় নিরলস কাজ করছেন।

আক্কেলপুর থানায় যোগদানের পর থেকেই মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং ও সবধরণের সামাজিক অপরাধ নির্মূলে জনগণকে সচেতন করতে বিরামহীন ভাবে ছুটে চলেছেন তিনি। চুরি হওয়া বৈদ্যুতিক মিটার/ট্রান্সফরমার এর যন্ত্রাংশ বগুড়া হতে উদ্ধার সহ এ চক্রের হোতা ৭ জন আসামী গ্রেফতার, আন্তঃ জেলা গরু চোর চক্রের ৫ জন সদস্য গ্রেফতারসহ চুরি যাওয়া ৩টি গরু গাইবান্ধা জেলার গোবিন্ধগঞ্জ থানা এলাকা হতে উদ্ধার। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও পিকআপ সহ ৫ জন আন্তঃ জেলা ডাকাত সদস্য গ্রেফতার। ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন সহ মুল আসামী গ্রেফতারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশা মানুষের কাছে প্রশংসনীয় হয়ে উঠেছেন।

অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা ধারণ করে তিনি এই থানার আওতায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মসজিদ, মন্দির, হাটবাজার, জনসমাগম এলাকাসহ তিনি প্রতিনিয়ত জনগণের সাথে সরাসরি সভা, সেমিনার ও উঠান বৈঠক করেছেন। সমাজের নানারকম সমস্যা সমাধানের জন্য জনগণের দোরগড়ায় পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি হৃদয় দিয়ে বরণ করেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলো। জনগণকে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, সমাজে যারা খারাপ কাজের সাথে জড়িত তাদের সংখ্যা খুবই কম। সমাজে ভালো মানুষের বসবাস এখনো অনেক বেশি। তাই সবাইকে সমাজের তথা দেশের কল্যানে কাজ করতে হবে। এই কমসংখ্যক খারাপ মানুষ সমাজটাকে অস্থিতিশীল করে তোলে। কারন একটাই! আমরা সমাজের মানুষগুলো প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছিনা। আমরা প্রতিবাদ না করায় দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছি। স্থানীয় জনগণ যদি পুলিশকে সহযোগিতা করে তাহলে সমাজ থেকে এসব অপরাধীদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জনগনকে আশ্বস্থ করেন।

তিনি বলেন, আপনাদের যেকোন সমস্যা সরাসরি পুলিশকে জানান, তাহলে পুলিশ আপনাদের সহযোগিতা করতে পারবে। তিনি মা-বোনদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যারা রাস্তায় বিভিন্ন কাজে চলাফেরা করেন তারা অবশ্যই থানার নম্বর ও স্থানীয় বিট পুলিশিংয়ের নম্বর সঙ্গে রাখবেন। বখাটে ছেলেরা আপনাদের উত্যক্ত করলে চুপ থাকবেন না বরং প্রতিবাদ করবেন। পুলিশ আপনাদের সহোযোগীতায় পাশে আছে। তিনি বলেছেন, ইভটিজিংয়ের শিকার হলে স্থানীয় বিট পুলিশিংয়ের সহযোগিতা নিতে অথবা সরাসরি তার নম্বরে যোগাযোগ করতে।

এছাড়াও যেসব মানুষ বিপদে পড়বেন বা সমস্যার সম্মুখীন হবেন সরাসরি থানায় চলে আসবেন। এই থানার ওসির কক্ষের দরজা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। কাউকে কোন তদবির করতে হবেনা, কোন মানুষ সঙ্গে আনতে হবেনা। এক কথায় আপনারা যে কোন রকম সমস্যায় পড়লে পুলিশের শরনাপন্ন হবেন পুলিশ আপনার সমস্যাটা নিজের মনে করে আপনাদের সেবা দেবে। সেই সাথে যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, আপনারা সকলে বাবা মায়ের সেবা করবেন। বাবা মা কোন সন্তানের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ আমার কাছে আনলে চুল পরিমান ছাড় দেওয়া হবেনা। তিনি এই এলাকার মানুষকে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহবান জানান।

এলাকার একাধিক জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি এখানে যোগদানের পূর্বে এলাকায় মাদক চোরাকারবারি সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ তুঙ্গে উঠেছিল। তিনি এসে পর্যায়ক্রমে মাদক কারবারি ও সেবনকারী সহ সকল অপরাধ মূলক কাজকে প্রায় ৯০ ভাগ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এজন্য তিনি ইতিমধ্যে এলাকার আপামর জনতার কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এখানকার মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার সার্থে রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার ও ফোর্সদের সর্বদা সজাগ রাখা ও সার্বিক তদারকির পাশাপাশি তিনি নিদ্রা পরিত্যাগ করে সারারাত জেগে তিনি টহল দেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পাড়া-মহল্লার ভিতরে পায়ে হেঁটে টর্চলাইট নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে পাহারাদারের ভূমিকাও পালন করে আসছেন তিনি। পুলিশি সেবায় বিচক্ষণ, দূরদর্শী এবং বন্ধুসূলভ ব্যবহারে পুলিশ কর্মকর্তা থেকে জনসাধারনের বন্ধুতে পরিণত হয়েছেন তিনি।

তার নিরলস প্রচেষ্টা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে জনগণকে পুলিশি সেবা দিতে স্বাচ্ছন্দে
কাজ করে যাচ্ছেন অধীনস্থ পুলিশ সদস্যরা।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সর্বদা অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

থানায় এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ায় পুলিশের প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হয়েছে বলে শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের সুমি আক্তার বলেন, নির্দ্বিধায় ওসির অফিসে গিয়ে আমার সমস্যার কথা ওনাকে বলে সুষ্ঠু সমাধান পেয়েছি। আমি গরিব মানুষ, তারপরও ওসি স্যারের আচরণে আমি মুগ্ধ হয়েছি। বর্তমানে এই থানার ওসি এবং সকল পুলিশ খুবই ভালো এবং আন্তরিক। আমি তাদের জন্য দোয়া করি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আক্কেলপুর মুজিবর রহমান সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোকছেদ আলী বলেন, বর্তমান ওসি খুবই ইন্টেলিজেন্ট মানুষ। ওনি এখানে যোগদানের পরে চুরি-ডাকাতি সহ যাবতীয় অপরাধ কমে গেছে এবং ইতিমধ্যে তিনি ক্লুলেস মার্ডারের তথ্য উদঘাটন, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার, আসামি গ্রেপ্তারসহ আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখায় সর্বমহলে আস্থাশীল ও প্রশংসনীয় হয়েছেন। যেহেতু আমরা রাজনীতি করি, সে সুবাদে আমাদের কাছে অনেক তথ্য আসে। বর্তমান ওসির কাছে সেবা প্রত্যাশী কোন জনগণ অর্থনৈতিক বা কোন প্রকার হয়রানির শিকার হয়নি। একথাটি আমি চলতি মাসের আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে উপস্থাপনও করেছি।