print news || Dailydeshsomoy

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, ৪ ডিসেম্বর ২০২০:-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০১৭ সালে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।প্রথম দিক থেকেই নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আসছিল সরকারি সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য নানাবিধ কর্মসূচি হাতে নিয়ে এ সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বর্তমান বছরের মার্চ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে আছে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব এ। এতে বিভিন্ন অনুষদের পরীক্ষা,ক্লাস, ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সাক্ষাত শেষে শিক্ষার্থীদের একটি বিশেষ বার্তা প্রদান করেছেন, সরকারি কবি নজরুল কলেজের অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার (ফোকাল পয়েন্ট ও সমন্বয়ক, অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ)। তার গতকালের বিশেষ বার্তাটি সম্পূর্ণ তুলে ধরা হলো।

অধ্যাপক আই.কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার বলেন,অনেক জটিলতা থাকলেও আমরা পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা নেয়া প্রায়ই নিয়মে এনেছিলাম। তবে ফলাফল বিপর্যয় পীড়াদায়ক ছিলো। তার কারণ ব্যাখ্যায় যাবো না। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমাদের অতি উৎসাহী কেহ কেহ এজন্য দায়ী। এটা মানতে হবে, ফেল করা শিক্ষার্থীকে পাশ করানোর দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না,সুযোগও নেই। এখনো সতর্ক না হলে একসময় বিনা সনদে বিরাট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন,যারা নিয়মিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ৭ কলেজে ভর্তি হয়েছিলো, তাদের তাদের ক্লাস, পরীক্ষা পূর্ব নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শতভাগ সফলভাবে চলছিল। কিন্তু করোনা আমাদের সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে!

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা ও তত্বাবধানে করোনার শুরু হতে সারা দেশের মতো ঢাকার সরকারি ৭ কলেজ অনলাইনে ক্লাস নেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছিল। শিক্ষক ছাড়াও শিক্ষার্থীদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিলো, এখনো আছে মানতে হবে। তবে শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব ছিলো না। তাই সিলেবাস শেষ করতে আমরা অনেকটা সফল।

বিভিন্ন বর্ষের সিলেবাস প্রায় শেষ। বিজ্ঞানের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য নয়। মাস্টার্স চূড়ান্ত, ডিগ্রি স্পেশালসহ ২/৩টি পরীক্ষা মাঝপথে আটকে আছে। সরকারি নির্দেশনা ও ক্লিয়ারেন্স যখনই পাওয়া যাবে, স্বল্প সময়ের নোটিশে ও গ্যাপে সকল পরীক্ষা শুরু হবে এবং দ্রুত ফল প্রকাশে আমরা সচেষ্ট থাকব।এর বাইরে অন্যান্য সকল বর্ষের পরীক্ষা নেয়ার জন্য পরীক্ষা কমিটি গঠন, প্রশ্ন প্রনয়ন, রুটিন তৈটি, ফরম ফিলাপ সব কিছুর প্রস্তুতি নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৭ কলেজের পক্ষে পরামর্শ দিয়েছি। তারা কাজ শুরু করেছে। মনে রাখতে হবে, সময় খুব বেশী সময় দেয়া যাবে না বা পরীক্ষায় বেশী গ্যাপও দেয়া যাবে না।কারণ, করোনায় অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। চাকরির বাজারের বেশ হাহাকার। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের ভালো সামর্থ্যের কারণে দ্রুত তাদের শিক্ষার্থীদের চাকরি বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। পিছিয়ে যাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ও সরকারি কলেজে পড়ুয়া প্রান্তিক লেভেলের শিক্ষার্থীরা, তাই আমরা সতর্ক। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধীভুক্ত ঢাকার সরকারি ৭ কলেজের প্রায় ২ লক্ষ শিক্ষার্থীর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও সতর্ক হবার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিনীত অনুরোধ করছি।
আর শিক্ষার্থীদের প্রতি, ফেল করাদের পাশ করানোর দায়িত্ব কেউ নেবে না। যেহেতু করেনাকালীন বিশেষ পরিস্হিতি, নিজেদের অনেক অনেক দায়িত্বশীল হতে হবে। পড়ে পাশ করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের কে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।