print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,১৯, অক্টোবর,২০২২

আশিকুর রহমান, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ-

কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলাধীন দাউদান্দি ১নং সদর (উঃ) ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড-এর ইউপি সদস্য মোঃ নাজমুল এর সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে গণসাক্ষ্য গ্রহন করে।
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলাধীন দাউদকান্দি ১নং সদর (উঃ) ইউনিয়নের হাসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উক্ত ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জনাব মোঃ নাজমুলের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন গণসাক্ষ্য গ্রহণ করেছে নাজমুল মেম্বারের বিরুদ্ধে উক্ত ওয়ার্ডের ১৫১ জন ভুক্তভোগী স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, দূর্নীতি দমন কমিশন, বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা এবং চেরাম্যান, দাউদকান্দি সদর (উঃ) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

ইউপি সদস্য মোঃ নাজমুল এর বিরুদ্ধে আনিত উল্লেখযোগ্য অভিযোগ সমূহের মধ্যে রয়েছে- ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ৮নং ওয়ার্ড তথা দাউদকান্দি (উঃ) ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব পরিচালনা করা, সরকার কর্তৃক সামাজিক সুরক্ষা সেবা আওতায় বিধবা ভাতা এবং বয়স্ক ভাতাভোগীদের নিকট হতে অনৈতিকভাবে ৩,০০০/- টাকা হারে আদায় করা, স্বল্প মূল্যে চালের কার্ডধারীদের নিকট থেকে একইভাবে ৪,০০০/- আদায় কর, টাকার বিনিময়ে দরিদ্রদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উপহার হিসেবে দেওয়া গৃহহীনদের গৃহ প্রদানের ক্ষেত্রে ২০,০০০-৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। ত্রাসের রাজত্বের কর্যক্রম হিসেবে যখন ইচ্ছে গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তির গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া, এছাড়াও দরিদ্রদের জন্য প্রেরিত টিউবওয়েল নিজের পরিত্যক্ত জমিতে স্থাপন করা, আর গ্রামের কেউ টিউবওয়েল নিতে হলে ১০,০০০/- টাকা ঘুষ নেওয়া, গ্রামে কেউ নতুন বাড়ি করলে কিংবা জমিতে বালু ভরাট করলে সেখান থেকে চাঁদা আদায়, গ্রাম্য বিচারের নামে তাঁর লাঠিয়াল বাহিনী দ্বারা মানুষকে নির্যাতন, নারী নির্যাতন, জোড় করে মানুষের বাড়ি দখল এবং মাদক ব্যবসা ছাড়াও প্রাচীন মহাজনি প্রথায় সুদের ব্যবসায় পরিচালনা, গ্রামের হত দরিদ্র মানুষের অভাবের সুযোগ নিয়ে উচ্চ সুদে টাকা দেন পরবর্তীতে তাঁদের বাড়িঘর দখল করে গ্রাম ছাড়া করেন। জন্ম নিবন্ধনের জন্য ২,০০০/- থেকে ৫,০০০/- টাকা, হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের খুটির মূল্য বাবদ ৫০,০০০-১,৫০,০০০/- টাকা আদায় করা।

উক্ত অভিযোগের তদন্তের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন গণসাক্ষ্য গ্রহণ করেন। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে গ্রামের শতশত নারী-পুরুষ লিখিতভাবে গণসাক্ষ্য প্রদান করেন। বিদেশ ফেরত রিজভী মোল্লা বলেন বিদ্যুতের খুটির জন্য তার কাছে থেকে ২,৫০,০০০/- টাকা আদায় করেন, সালমা বেগম নামের এক মহিলা অভিযোগ করেন তাদের পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করেছেন মেম্বারের ভয়ে তারা বাড়িতে আসতে পারেননা, খাজা হোসেন বলেন জন্ম নিবন্ধনের জন্য তার কাছ থেকে ৫,০০০/- টাকা আদায় করেছেন, শামিম মিয়া নামের একজন ভুক্তভোগী বলেন তার পরিবারের ৩টি জন্ম নিবন্ধনের জন্য তাঁর কছ থেকে ৯,০০০/- টাকা আদায় করেছেন, রোমান মিয়া নামের এক প্রতিবন্ধী অভিযোগ করেন প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য তাঁর কাছ থেকে ৫,০০০/- আদায় করেছেন, লাল চান নামের এক বাক প্রতিবন্ধীর মা অভিযোগ করেন তার ছেলের ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য তার কাছে থেকে ৩,০০০/- টাকা আদায় করেছেন, মালু মিয়া নামের এক ভুক্তভোগী বলেন ন্যয্য মূল্যের কার্ডের জন্য তার কাছ থেকে ৫,০০০/- টাকা নিয়েছেন এবং তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে, অহিদ মিয়ার বাড়ি থেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছেন, ছাদেক মিয়ার নামের এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন তাঁদের বাড়ি গিয়ে তার ভাতিজাকে গুম করার হুমকি দিয়েছে, ইমন নামের ৯ম শ্রেণির ছাত্র অভিযোগ করেন পারিবারিক দন্ধের কারনে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেনসহ এমন অসংখ ভুক্তভোগীর তাদের অভিযোগ দাখিল করেছেন।