
প্রকাশিত,২৪, সেপ্টেম্বর,২০২২
মোঃ আমিনুল ইসলামঃ
শুক্রবার (২৩সেপ্টেম্বর,২০২২) ভাংনা কেন্দ্রীয় (বড়)জামে মসজিদে কুরআনের ছবক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন মসজিদের ইমাম ও খতিব, বিশিষ্ট আলেম, হাফেজ মাওলানা মুফতি মোঃ জাকির হোসাইন সাহেব। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জনাব শাহিন চৌধুরী । আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষক, ছাত্র, ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। আলোচনা শেষে ২৬ জনের হাতে পবিত্র কুরআন তুলে দেয়া হয়।
আলোচনায় প্রধান অতিথি বলেন, পবিত্র কোরআন শিক্ষায় বয়স কোন বাধা নয়। দ্বিনী মৌলিক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কোন বয়সেই কোরআন শেখা যায়। সাহাবীরা অনেক বয়সেই কোরআন মুখস্হ করেছেন।
২৪ ঘন্টায় কুরআন শিক্ষা কোর্সের পরিচালক মুফতি মোঃ জাকির হোসেন বলেন, এই কোর্সটির মাধ্যমে আপনি কোরআন তিলাওয়াত সম্পর্কিত থাকা সকল ভুল-ভ্রান্তি দূর করে নিতে পারবেন। কোর্সটি সাজানো হয়েছে সব বয়সের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিতে কোরআন তিলাওয়াত শিখানোর উদ্দেশ্যে। কোরআন পড়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে, কোরআন শুদ্ধ করে পড়ার নিয়ম জানতে এবং সঠিক ও নির্ভুলভাবে কোরআন শিখতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কোর্সে ভর্তি হয়ে যান। তিনি বলেন,যারা কোরআন তিলাওয়াত শিখতে চান কিন্তু সময়ের অভাবে শুরু করতে পারছেন না।চর্চার অভাবে যারা কোরআন তিলাওয়াতের সঠিক নিয়মাবলি ভুলে গিয়েছেন।কোরআন তিলাওয়াতের বিধি-নিষেধ ও সঠিক উচ্চারণের গুরুত্ব সম্পর্কে যারা অবগত নন তাদের জন্যই এই কোর্সটি।তিনি কুরআন শিক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
ছাত্ররা তাদের বক্তব্যে বলেন, ২৪ ঘন্টায় কুরআন শিক্ষা কোর্স করে তারা দ্রুত সময়ে কোরআন তিলাওয়াতের সহীহ ও শুদ্ধ পদ্ধতি শিখেছেন।বিশেষ করে সঠিক কোরআন তিলাওয়াতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি, যেমন: মুক্তবর্ণ, যুক্তাক্ষর, হরফ, হরকত, তানভীন, জযম, তাশদীদ, মাদ্দ, ওয়াকফ ইত্যাদি।
যারা দীর্ঘদিন চর্চার অভাবে কোরআন তিলাওয়াতের সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, নানারকম ব্যস্ততার কারনে শুদ্ধতার সাথে কোরআন পাঠ করা হয়ে উঠছেনা, আপনার দুশ্চিন্তা দূর করতে ও কোরআন পাঠ শেখার যাত্রা সহজ করতে এসেছে ‘২৪ ঘণ্টায় কোরআন শিখি’ কোর্সটি।কোরআন তিলাওয়াতের বিষয়গুলো খুব সহজেই আয়ত্ত্ব করতে চাইলে এই কোর্সটি করুন।
কুরআন শিক্ষার গুরুত্বঃ
কোরআনে কারিম মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান। প্রত্যেক নবী ও রাসুলকে আল্লাহতায়ালা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য কিতাব দান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করা হয় কোরআন মাজিদ। সৃষ্টিকূলের ওপর যেমন স্রষ্টার সম্মান ও মর্যাদা অপরিসীম, তেমনি সব বাণীর ওপর পবিত্র কোরআনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অতুলনীয়।
মানুষের মুখ থেকে যা উচ্চারিত হয়, তার মধ্যে কোরআন তেলাওয়াত সর্বাধিক উত্তম। কোরআনে কারিম বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পঠিত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত ও শিক্ষার অনেক গুরুত্ব অনেক। কোরআনের আয়াত ও হাদিসের একাধিক জায়গায় এর ফজিলতের কথা আলোচনা করা হয়েছে।
কোরআন তেলাওয়াত একটি লাভজনক ব্যবসা
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত আল্লাহর সঙ্গে একটি লাভজনক ব্যবসা। বিভিন্ন ব্যবসায় লাভ এবং ক্ষতি দু’টিরই সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এখানে লাভ ছাড়া কোনো প্রকার ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসা আশা করে, যাতে কখনও লোকসান হবে না।
পরবর্তী আয়াতে আরও বলা হয়েছে, ‘পরিণামে তাদেরকে আল্লাহ তাদের সওয়াব পুরোপুরি দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।’ -সুরা ফাতির : ২৯-৩০
প্রত্যেক হরফের জন্য সওয়াব লাভ
কোরআনে কারিম তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিরাট সওয়াব অর্জন করার সুযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে অনেক উপকারিতাও রয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।’ -তিরমিজি : ২৯১০
কোরআনের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সর্বোত্তম ব্যক্তি
পবিত্র কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়। হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই, যে নিজে কোরআন শিক্ষা করে ও অপরকে শিক্ষা দেয়।’ -সহিহ বোখারি : ৫০২৭
কোরআন তেলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ করবে
কেয়ামতের ভয়াবহ অবস্থার সময় কোরআন তেলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ করবে। এটা বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন তেলাওয়াত করো, কারণ, কোরআন কেয়ামতের দিন তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।’ -সহিহ মুসলিম : ১৯১০
কোরআন পড়া উত্তম সম্পদ অর্জন
কোরআন পড়া বা শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত থাকা উত্তম সম্পদ অর্জন করার অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ কেন সকালে মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কোরআন হতে দু’টি আয়াত পড়ে না বা শিক্ষা দেয়।
তাহলে সেটি তার জন্য দু’টি উট লাভ করার চেয়ে উত্তম হবে। তিনটি আয়াত তিনটি উট অপেক্ষা উত্তম। চারটি আয়ত চার উট অপেক্ষা উত্তম। অনুরূপ আয়াতের সংখ্যা অনুপাতে উটের সংখ্যা অপেক্ষা উত্তম। -সহিহ মুসলিম : ১৩৩৬
কোরআন তেলাওয়াত ঈমান বাড়ায়
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত বান্দার জন্য এমন উপকারী যে, তা তেলাওয়াত করলে ঈমান বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেওয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ারদেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।’ -সুরা আনফাল


