print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,২৭, জুলাই,২০২২

প্রতিবেদক, ‌ এসএম রুবেল্।

জেল যেন অন্য জগৎ
দেশের জেল গুলো যেন অন্য জগতে পরিণত হয়েছে ক্ষমতা যার সব তার।
দেশের জেল গুলোতে আসামিরা যে পরিমাণ সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা তা শুধু খাতা কলমে পাচ্ছে,বাস্তব চিত্র সম্পুর্ন আলাদা বলে জেলের ভিতরে আটকে থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসা অনেকেই অভিযোগ তুলেছে।বাংলাদেশ জেলের অধীনে বর্তমানে ১৩ টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৫৫ টি জেলা কারাগার রয়েছে। বাংলাদেশের কারাগার সমূহের ধারণক্ষমতা ৪২,৪৫০ জন,কিন্তু ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৮২,৬৫৪ জন কারাবন্দী ছিল। বন্দি রাখা,তাদের সংশোধন ও সুপ্রশিক্ষিত করে সভ্য মানুষ গড়ে তোলা।কারাগার আধুনিক সভ্যতায় বন্দিদের সংশোধন ও সুপ্রশিক্ষিত করে সভ্য সমাজের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান হলেও বাস্তব চিত্র সম্পুর্ন উল্টা জেল খেটে বেরিয়ে এসে আরো বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে আসামিরা।

বিভিন্ন কারণে মানুষ অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়তে পারে। আইন অনুসারে শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি তাকে সংশোধন করে গড়ে তোলার দায়িত্ব বাংলাদেশ কারা বিভাগের।জানা যায়,ভারতের রাজা অশোকের সময়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দিকে তিন দিন একটি কুঠুরিতে বেঁধে রাখা হতো৷ এ ধরনের কয়েদ খানার অস্তিত্ব জমিদারি ব্যবস্থাপনায় ছিল৷ উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আগমনের পর মূলত কারা ব্যবস্থাপনা নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ পেতে থাকে৷ ১৮১৮ সালে রাজবন্দীদের আটকার্থে বেঙ্গল বিধি জারি করা হয়৷ বর্তমানের বাংলাদেশের ঢাকা, রাজশাহী,ময়মনসিংহ (১৭৯৩), যশোর,কুমিল্লা এবং কয়েকটি জেলা ও মহকুমা কারাগার উক্ত সময়ে নির্মিত হয়৷ তবে ১৭৮৮ সালে একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা কারাগারের কাজ শুরু হয়৷ ১৮৬৪ সালে সকল কারাগার পরিচালনা ব্যবস্থাপনার মধ্যে এক সমন্বিত কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হয় কোড অফ রুলস চালুর মাধ্যমে৷ ১৯২৭ সালের এপ্রিলে কিশোরদের জন্য বাঁকুড়ায় (ভারত) প্রথম বরস্টাল ইন্সটিটিউট স্থাপিত হয়৷ ১৯২৯ সালে অবিভক্ত বাংলায় কলকাতার প্রেসিডেন্সি,আলীপুর, মেদিনিপুর,ঢাকা ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ঘোষিত হয়৷ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ০৪ টি কেন্দ্রীয় কারাগার,১৩টি জেলা কারাগার এবং ৪৩ টি উপ-কারাগার নিয়ে বাংলাদেশ জেল (বিডিজে) এর যাত্রা শুরু৷ পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে বন্দি সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে উপ-কারাগার গুলিকে জেলা কারাগারে রূপান্তর করা হয়৷ বর্তমানে ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৫৫টি জেলা কারাগার নিয়ে বাংলাদেশ জেল কাজ করে চলছে৷

বাংলাদেশের কিছু সংখ্যক জেল কারাগারে অনিয়ম আর দুর্নীতিতে কারাবন্দীদের ন্যায্য হক লুটে খাচ্ছে জেল কর্তৃপক্ষেরা উপরমহল থেকে ভিজিট করতে আসলে তা দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য দুর্নীতিতে ঢাকা যা হয়ে যায় নিস্তব্ধ,কারাবন্দিরা তাদের প্রাপ্য হক আদায়ের কথা ডেল কর্তৃপক্ষের হাত-পা বেঁধ গণপিটুনির ভয়ে মুখ খুলতে পারে না। তাই উচ্চপদস্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছে সাধারণ জনগণ বাংলাদেশের টোটাল কারাগারে সুদৃষ্টি দিয়ে প্রতিষ্ঠা কায়েম করা হোক।

জনস্বার্থে,সাংবাদিক এসএম রুবেল্।