
প্রকাশিত,২৬, জুলাই,২০২২
এস চাঙমা সত্যজিৎ
চট্টগ্রাম বিভাগঃ
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলাতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ)’র সদস্য শহীদ শরৎ জ্যোতি চাকমার ধর্মীয় শ্রদ্ধানুষ্ঠান ও স্মরণ সভা যথাযোগ্য মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ২৬ জুলাই ২০২২ সকাল ৮টায় পূজগাং এলাকায় ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী অষ্টপরিস্কার দান, সংঘদানসহ নানাবিধ দানের মাধ্যমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
এরপর সকালে সাড়ে ১০টায় “শহীদ এর স্মৃতি অম্লান!, মামলা-হুলিয়া-গ্রেফতার-নির্যাতন পরোয়া করি না, মৃত্যুর ভয়েও ভীত নই, দুঃখী মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে এই মহান পথ থেকে কোন কিছুই বিচ্যুত করতে পারবে না” শ্লোগানে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ)’র পানছড়ি উপজেলা ইউনিটের উদ্যোগে শহীদ শরৎ জ্যোতি চাকমার স্মরণে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। স্মরণসভা শুরুতে শহীদ শরৎ জ্যোতি চাকমা’র প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ)’র সংগঠক সুমেন চাকমার সঞ্চালনায় স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) পানছড়ি ইউনিটের সমন্বয়ক আইচুক ত্রিপুরা। এতে আরো বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক বরুণ চাকমা, পিসিপি ‘র পানছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি তৃষ্ণাঙ্কর চাকমা ও যুবনাশ্ব পাড়ার স্হানীয় মরুব্বীগণ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ সংগঠক প্রজন্ম চাকমা।
সভায় সভাপতি আইচুক ত্রিপুরা বলেন, যিনি জনগণের জন্য জীবন দেন তিনিই অমর। শহীদ শরৎ জ্যোতি চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজেকে আত্মোৎসর্গ করেছেন। তার নাম পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, শাসকগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে দমন করার জন্য নতুন করে সন্তু লারমার জেএসএস-কে ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। আর এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়ে জেএসএস সমঝোতার সকল শর্ত লঙ্ঘন করে ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে শরৎ জ্যোতি চাকমা ও জীবন ত্রিপুরাকে হত্যা করেছে।
ইউপিডিএফ নেতা আইচুক ত্রিপুরা অভিযোগ করে বলেন, সরকার তথা শাসকগোষ্ঠিই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতকে উস্কে দিচ্ছে। যার কারণে তারা গত ২৪ জুলাই দীঘিনালা ও সাজেকে সংঘাত বন্ধের দাবীতে আয়োজিত মানববন্ধনে জনগণকে অংশগ্রহণে বাধা প্রদান করেছে। শাসকগোষ্ঠি একদিকে সংঘাত বাঁধিয়ে দিয়ে ফায়দা লুটতে চাইছে, অন্যদিকে অন্যায়ভাবে ইউপিডিএফ’র ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সংঘাতের উস্কানি দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, অন্যায়ভাবে দমন-পীড়ন চালিয়ে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন স্তব্ধ করা যায় না। শত দমন-পীড়নেও ইউপিডিএফ তার লক্ষ্যে অবিচল থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যেতে বদ্ধ পরিকার।
স্মরণসভা থেকে তিনি অবিলম্বে সংঘাতমূলক কার্যক্রম বন্ধ করে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার জন্য জেএসএস-এর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই পানছড়ি উপজেলা সীমান্তবর্তী দীঘিনালা এলাকায় জেএসএস (সন্তু)’র সশস্ত্র সদস্যরা ইউপিডিএফ সদস্য শরৎ জ্যোতি চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে।
এস চাঙমা সত্যজিৎ


