
প্রকাশিত,২৪, আগস্ট,২০২১
আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্কঃ
আফগানিস্তানে বহু নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের সবার অংশগ্রহণে সরকার গঠন করতে চায় তালেবান।
এছাড়া দেশটির প্রভাবশালী সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নয়া সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সংগঠনটি মনে করে, এতে সরকার টেকসই হবে এবং সব পক্ষকে খুশি রাখা যাবে। এছাড়া বহির্বিশ্বে তালেবান সম্পর্কে ভুল ধারণার অবসান হবে। তালেবান কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন নয়। আফগানিস্তানে হিজাবের শর্তে নারীদেরও শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসাসহ সব অধিকার থাকবে। সোমবার তালেবানের রাজনৈতিক মুখপাত্র সোহাইল শাহিন এবং কালচারাল কমিশনের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বালখি পৃথক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যম পার্সটুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোহাইল শাহিন নতুন ইসলামি সরকারের কাঠামো স্পষ্ট করেন। তালেবান সরকারে শুধু পাশতুনদের অংশগ্রহণ থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসলামি সরকার কোনো নৃগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হবে না। আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশসহ আরও কয়েকটি প্রদেশে তাজিক জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। ফারিয়া ও সারে পোলের মতো প্রদেশগুলোয় রয়েছে উজবেক জনগোষ্ঠী। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে পাশতুন জনগোষ্ঠী। এরা সবাই আফগানিস্তানের জনগণ এবং তারা ইসলামি সরকারের অংশ হবে। তালেবান সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়।
কাবুল দখলের পর পুরো আফগানিস্তান এখন তালেবানদের দখলে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান ও তুরস্ক তালেবান সরকারকে স্বীকৃতির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে।
সোহাইল শাহিন জোর দিয়ে বলেন, তালেবান নেতৃত্ব একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সরকারে এবং দেশ পুনর্গঠনে সব নৃগোষ্ঠীর অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সবাই যাতে দেশের জনগণের সেবা করতে পারে, সেজন্য অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করা হবে।
ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠী (আইএস) সম্পর্কে তালেবানের এ মুখপাত্র বলেন, আফগানিস্তানের এটি একটি বিদেশি চক্র, দেশের মাটিতে কোথাও এদের ঠাঁই হবে না। আফগানিস্তানের ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চাইছে তালেবান। মেয়েদের শিক্ষা এবং নারীদের কর্মসংস্থান সম্পর্ক তিনি বলেন, আফগানিস্তানে হাজার হাজার গার্লস স্কুল রয়েছে। সেগুলো চালু আছে। কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না, মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে। নারী শিক্ষকরাও তাদের কাজ শুরু করেছেন। ফলে নারীদের শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানে প্রবেশে আমাদের কোনো সমস্যা নেই, তবে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই ইসলামি হিজাব মানতে হবে। নারীদের অধিকার থাকবে, তবে শুধু হিজাব মানার শর্ত থাকবে। হিজাব পরে নারীরা চাইলে ব্যবসাও করতে পারবে।
এদিকে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তালেবানের কালচারাল কমিশনের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বালখি বলেন, নতুন সরকার গঠনে কাজ চলছে এবং অবশ্যই আমরা ভালো একটা পদ্ধতির মধ্যে কাজ করতে পারব। রাজধানী তালেবানের যাত্রাস্থল কান্দাহারে স্থানান্তর করা হবে নাকি কাবুলেই থাকবে, সেটি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
কাবুল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলছি, একসঙ্গে কাজ করছি। বিমানবন্দরের বাইরে চেকপোস্ট আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভেতরের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা দেখছেন। আমরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তালেবানের ওপর কাবুলের মানুষের আস্থার সংকটের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে তারা দেশ ছাড়তে বিমানবন্দরে ভিড় করছেন। আমরা সবার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছি, নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন থেকে শুরু করে সবার জন্য।
তালেবান টার্গেট করে লোকজনদের ধরে হত্যা করছে, হয়রানি করছে-এমন অভিযোগের বিষয়ে বালখি বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইন মোতাবেক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া। কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে।
তালেবানকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বলা হয় বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বালখি বলেন, আমি বিশ্বাস করি না মানুষ আমাদের সন্ত্রাসী মনে করে। ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ একটি কথিত ধারণা। এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার করা টার্ম


