
প্রকাশিত,১৯, জুন,২০২১
মোহাম্মদ শফিক, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজারঃ
কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের একটি পরিবারেই প্রায় ২০০ জন রোহিঙ্গা নাগরিকের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যারা ৩ যুগেরও বেশি সময় ধরে এখানে বসবাস করেছেন।
দুদকের তথ্য হলো- এসব লোক মিয়ানমারের নাগরিক হয়েও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারী বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পেয়েছেন জাতীয়তা সনদপত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, ভূমিহীন প্রত্যয়নপত্র, স্কুলের প্রত্যয়ন।
ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন রোহিঙ্গারা।
তাদের হাতে এখন স্মার্টকার্ড ও বাংলাদেশী পাসপোর্ট। অনেকে স্বপরিবারে থাকে প্রবাসে। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরিও করছে তার।
দুদকের অনুসন্ধান মতে- এসব পুরাতন রোহিঙ্গারা ভুয়া নাম-ঠিকানায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভোটার হয়েছেন। তারা একজন অপরজনের পরিবারের সদস্য দেখিয়ে পাসপোর্ট নিয়েছেন। অবৈধ সুবিধা নিয়ে তাদের ভোটার ও পাসপোর্ট পেতে সহযোগিতা করেছেন কিছু বাংলাদেশী লোক। এসব রোহিঙ্গাদের অনেকে আবার জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপনাসহ সামাজিক কার্যক্রম করছেন।
এরকম অভিযুক্ত ১৩ রোহিঙ্গার পাসপোর্ট নাম্বারসহ উল্লেখ করে তা বাতিলের সুপারিশও করেছে সরকারী অপরাধ তদন্ত সংস্থা-দুদক।
এদিকে, জালিয়াতির মাধ্যমে ১৩ রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে কক্সবাজারের সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা, বর্তমানে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের অতিরিক্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম -২ এর উপ-সহকারী পরিচালক (সদ্য পটুয়াখালীতে বদলিকৃত) মো. শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) মামলাটি করেন। যার মামলা নং-১৪/২১।
মামলায় মো. মোজাম্মেল হোসেন ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে অন্যান্য আসামিরা হলেন– কক্সবাজার ডিএসবির সাবেক ওসি, বর্তমানে রংপুর ডিআইজি অফিসের পুলিশ পরিদর্শক প্রভাষ চন্দ্র ধর, কক্সবাজার ডিএসবির সাবেক পরিদর্শক, বর্তমানে পটুয়াখালীর পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এস এম মিজানুর রহমান, কক্সবাজার ডিএসবির সাবেক পরিদর্শক, বর্তমানে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রুহুল আমিন।
রোহিঙ্গা নাগরিকদের মধ্যে আসামিরা হলেন- মো. তৈয়ব, মোহাম্মদ ওয়ায়েস, মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, মোহাম্মদ রহিম, আবদুর রহমান, আব্দুস শাকুর, নুর হাবিবা, আমাতুর রহিম, আসমাউল হুসনা, আমাতুর রহমান, নুর হামিদা, মোহাম্মদ ওসামা ও হাফেজ নুরুল আলম।
ইসলামাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুর ছিদ্দিক নিজে লাভবান হয়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা সনদপত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদান করেন এবং নিবন্ধন বালাম বই গায়েব করে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র ধর, এসএম মিজানুর রহমান ও রুহুল আমিন অসৎ উদ্দেশ্যে লাভবান হয়ে এবং অপরকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট প্রদানের অনুকূলে ‘পুলিশ প্রতিবেদন’ প্রেরণ করেন।
মামলার বাদি মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ১৩ জন রোহিঙ্গাকে জাতীয়তা সনদ ও পাসপোর্ট পাইয়ে দেন। প্রাথমিক তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আজ তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১/০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।’
জেলায় নতুন ঘর পাচ্ছে আরও ১৪২৩ পরিবার
মোহাম্মদ শফিক, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলায় মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার নতুন ঘর পাচ্ছে আরও ১৪২৩টি ভূমিহীন—গৃহহীন পরিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রোববার আশ্রয়-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় ধাপে ভূমিহীন, গৃহহীন এসব পরিবারকে বিনামূল্যে দুই শতক জমিসহ সেমি পাকা ঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
শুক্রবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। এই প্রকল্পের আওতায় ১ম পর্যায়ে এর আগে আরও ৩০৩ টি পরিবার নতুন বাড়ি পেয়েছে। ২০ জুন ১০১৮ পরিবারকে নতুন ঘর হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আরও ১০২ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর প্রদান করা হবে। এ নিয়ে জেলায় মোট ১৪২৩টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল বাংলার গরীব-দুঃখীদের মুখে হাসি ফোটাবার। তাই “মুজিববর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” প্রধানমন্ত্রী এই মহতী স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরের লক্ষ্যে খাস জমি বন্দোস্ত করে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিগত ২৩ জানুয়ারি ১ম পর্যায়ে ৩০৩টি গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। ২য় পর্যায়ে মোট ১০১৮টি পরিবার পাবে নতুন ঘর।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বিভিন্ন দেশে ভূমিহীন, গৃহহীনদের ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার নজির আছে, কিন্তু ভূমিহীন—গৃহহীনদের ডেকে বাড়ি—ঘর দেওয়ার নজির আর নেই।
জেলা প্রশাসক বলেন, অসহায় মানুষকে এভাবে ঘর দেওয়া ‘অন্তর্ভুক্তি উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’। বিশ্বে এটা নতুন মডেল, আগে কখনও কেউ এটা ভাবেননি। সরকার অসহায় ভূমিহীন—গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, অনিয়মের অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনিয়মের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার সুইটি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুল ইসলাম।


