
প্রকাশিত,৭, জুলাই,২০২১
অনলাইন ডেস্ক ঃ
বাংলাদেশে ঢাকা সহ দেশের কয়েকটি জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া এই ভূমিকম্পে দুলেছে দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, পাবনা, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, শেরপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ সহ কয়েকটি জেলা।
বুধবার,৭, জুলাই, সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যানুসারে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের লখিপুর শহর থেকে সাত কিলোমিটার দক্ষিণে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৩।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ফ্রিকোয়েন্সি লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেটা অনুযায়ী, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্প আঘাত হানে। মূলত উৎপত্তিস্থল থেকে সিলেট অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে ভূমিকম্প প্রবেশ করে। বাংলাদেশে ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৪ এবং ৩ দশমিক ৭।
ওই ভূমিকম্পে টেকটোনিক প্লেটের গভীরতা ছিল প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলের হিসাবে চার মাত্রার ভূমিকম্পকে হালকা ধরে নেওয়া হয়। অন্যদিকে ছয় থেকে সাত মাত্রার ভূমিকম্পকে শক্তিশালী হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। এ মাত্রার ভূমিকম্পে মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এ পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ৩৭টির বেশি বড় ধরনের ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।
জিওগ্রাফিক্যালি বাংলাদেশের অবস্থান ভূমিকম্প জোনে। ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকম্পের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির অনেকটা আশঙ্কা রয়েছে। সুতরাং জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষকে সচেতন হতে হবে। এ অবস্থায়, পরিকল্পিত নগরায়ণ, পাহাড় কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা, বনায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, নদীর নাব্য বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নে বায়ুমণ্ডলে নির্গত গ্রিন হাউজ গ্যাস কমিয়ে ভূমিকম্পসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে।


