
প্রকাশিত,২৪ এপ্রিল, ২০২১
মোঃ সাইফুল ইসলাম,লেখক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
বর্তমানে আমরা যতটা আধুনিক হচ্ছি তার প্রধান চালিকাশক্তি আমাদের হাতের প্রযুক্তি। এই সমস্ত প্রযুক্তির মধ্যে মানুষের সবচেয়ে বেশি কাজের হলো কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ইত্যাদি ডিভাইসগুলো। যেগুলো দ্বারা আমরা খুব সহজেই একে অন্যের সাথে সংযুক্ত হচ্ছি। আর এগুলোই এক প্রকার দুষ্কৃতকারী। খুব সহজেই বিভিন্ন ম্যালওয়ার বা ফিসিং ইত্যাদি দ্বারা আক্রান্ত করছে। খুব সহজেই এগুলো করে তারা এই সমস্ত ডিভাইসগুলো থেকে খুব সহজেই সমস্ত তথ্য বা ডাটা চুরি করছে। আর এগুলোই হলো সাইবার হামলা।
ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে শুরু করে সরকারি বা ডিজিটাল একাউন্ট হ্যাক করা সবই সাইবার হামলার অন্তর্গত। একটি সফল সাইবার হামলা যে কোনো একটি সেনাবাহিনীর হামলার ধ্বংসযজ্ঞ থেকেও বেশি শক্তিশালী। তাই পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো উন্নত মারণাস্ত্রের পাশাপাশি শক্তিশালী সাইবার হামলা চালাবারও প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
বর্তমান পৃথিবীতে ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৪৫০ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত। প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির সাথে সাথে ঝুঁকিও বেড়েছে বহুগুণ। বিজ্ঞানী ও হ্যাকাররা কম্পিউটার ভিত্তিক এমন সব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে যে যার সাহায্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খুব সহজেই হামলা করা সম্ভব।
সাইবার হামলার কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য ধরন হলো ফিসিং, বটনেট, ভাইরাস, ডিডিওএস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, রেমসামওয়্যার ইত্যাদি। এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজে যে কোনো কম্পিউটার বা যে কোনো ডিজিটাল ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলো থেকে কারো পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয়া থেকে শুরু করে ডিজিটাল যে কোনো প্রতারণা ও ক্ষতি করা সম্ভব। এই অপরাধ শুধু অন্যের কম্পিউটার দখল নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং উপযুক্ত একটি সাইবার হামলার মাধ্যমে বড় বড় কোনো শহর বা দেশ কয়েক মিনিটের মধ্যে অচল করে দেয়া সম্ভব।
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো শহরের টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ বিল, শিক্ষা খাত, পানি সরবরাহ, ব্যাংক, গণমাধ্যম, পরিবহণ ব্যবস্থাসহ সকল কিছুই কোনো না কোনোভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। মাত্র একটি ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাই কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারে। আজকাল কোনো বড় ধরনের হামলার জন্য বোমা নিক্ষেপের দরকার পরে না। শুধুমাত্র কম্পিউটার প্রোগ্রামের সাহায্যেই যথেষ্ট ক্ষতি করা সম্ভব।

